1 นโม ตสฺส ภควโต อรหโต สมฺมาสมฺพุทฺธสฺส
সেই ভগবান, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধকে নমস্কার।
ขุทฺทกนิกาเย
খুদ্দকনিকায়
จริยาปิฏกปาฬิ
চরিয়াপিটক পালি
๑. อกิตฺติวคฺโค
১. অকিত্তি বর্গ
๑. อกิตฺติจริยา
১. অকিত্তি চরিয়া
๑.
১.
‘‘กปฺเป [Pg.385] จ สตสหสฺเส, จตุโร จ อสงฺขิเย;
เอตฺถนฺตเร ยํ จริตํ, สพฺพํ ตํ โพธิปาจนํ.
হে সারিপুত্র, চার অসংখ্যেয় ও এক লক্ষ কল্পকাল ধরে এই অন্তর্বর্তী সময়ে আমি যে আচরণ অনুশীলন করেছি, সেই সমস্ত আচরণই বোধিজ্ঞান পরিপক্ব করার জন্য।
๒.
২.
‘‘อตีตกปฺเป จริตํ, ฐปยิตฺวา ภวาภเว;
อิมมฺหิ กปฺเป จริตํ, ปวกฺขิสฺสํ สุโณหิ เม.
অতীত কল্পসমূহে বিভিন্ন জন্মে আচরিত আচরণ বাদ দিয়ে, কেবল এই ভদ্রকল্পে আচরিত আচরণের কথাই আমি বলব; তুমি আমার নিকট থেকে তা শ্রবণ করো।
๓.
৩.
‘‘ยทา อหํ พฺรหารญฺเญ, สุญฺเญ วิปินกานเน;
อชฺโฌคาเหตฺวา วิหรามิ, อกิตฺติ นาม ตาปโส.
যখন আমি 'অকিত্তি' নামক তাপস হয়ে নির্জন ও নিস্তব্ধ এক মহাবনে প্রবেশ করে বাস করছিলাম,
๔.
৪.
‘‘ตทา มํ ตปเตเชน, สนฺตตฺโต ติทิวาภิภู;
ธาเรนฺโต พฺราหฺมณวณฺณํ, ภิกฺขาย มํ อุปาคมิ.
তখন আমার তপস্যার তেজে উত্তপ্ত হয়ে ত্রিলোকের অধিপতি শক্র ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে আমার নিকট আগমন করলেন।
๕.
৫.
‘‘ปวนา อาภตํ ปณฺณํ, อเตลญฺจ อโลณิกํ;
มม ทฺวาเร ฐิตํ ทิสฺวา, สกฏาเหน อากิรึ.
আমার পর্ণশালার দ্বারে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, বন থেকে সংগ্রহ করে আনা তেল ও লবণহীন পাতা সিদ্ধ পাত্রসহ তাঁকে দান করলাম।
๖.
৬.
‘‘ตสฺส ทตฺวานหํ ปณฺณํ, นิกฺกุชฺชิตฺวาน ภาชนํ;
ปุเนสนํ ชหิตฺวาน, ปาวิสึ ปณฺณสาลกํ.
তাঁকে সেই পাতা সিদ্ধ দান করে, পাত্রটি উপুড় করে রেখে এবং পুনরায় আহার অন্বেষণের চেষ্টা ত্যাগ করে আমি পর্ণশালায় প্রবেশ করলাম।
๗.
৭.
‘‘ทุติยมฺปิ ตติยมฺปิ, อุปคญฺฉิ มมนฺติกํ;
อกมฺปิโต อโนลคฺโค, เอวเมวมทาสหํ.
দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিনেও তিনি আমার নিকট আসলেন; আমি অকম্পিত চিত্তে ও কোনো আসক্তি ছাড়াই পূর্বের ন্যায় দান করলাম।
๘.
৮.
‘‘น [Pg.386] เม ตปฺปจฺจยา อตฺถิ, สรีรสฺมึ วิวณฺณิยํ;
ปีติสุเขน รติยา, วีตินาเมมิ ตํ ทิวํ.
সেই কারণে আমার শরীরে কোনো বিবর্ণতা বা দুর্বলতা দেখা দেয়নি; বরং প্রীতি ও সুখের আনন্দে আমি সেই দিনগুলো অতিবাহিত করেছিলাম।
๙.
৯.
‘‘ยทิ มาสมฺปิ ทฺเวมาสํ, ทกฺขิเณยฺยํ วรํ ลเภ;
อกมฺปิโต อโนลีโน, ทเทยฺยํ ทานมุตฺตมํ.
যদি আমি এক মাস বা দুই মাস ধরেও এমন উত্তম দক্ষিণীয় ব্যক্তি পেতাম, তবে অকম্পিত চিত্তে ও কুণ্ঠাহীনভাবে এই উত্তম দান করে যেতাম।
๑๐.
১০.
‘‘น ตสฺส ทานํ ททมาโน, ยสํ ลาภญฺจ ปตฺถยึ;
สพฺพญฺญุตํ ปตฺถยาโน, ตานิ กมฺมานิ อาจริ’’นฺติ.
তাঁকে সেই দান করার সময় আমি কোনো যশ বা লাভ আকাঙ্ক্ষা করিনি; কেবল সর্বজ্ঞতা জ্ঞান লাভের আশাতেই আমি সেই পুণ্যকর্মসমূহ সম্পাদন করেছিলাম।
อกิตฺติจริยํ ปฐมํ.
প্রথম অকিত্তি-চরিয়া সমাপ্ত।
๒. สงฺขจริยา
২. শঙ্খ-চরিয়া
๑๑.
১১.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, พฺราหฺมโณ สงฺขสวฺหโย;
มหาสมุทฺทํ ตริตุกาโม, อุปคจฺฉามิ ปฏฺฏนํ.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি 'শঙ্খ' নামক ব্রাহ্মণ ছিলাম, তখন মহাসমুদ্র পার হওয়ার ইচ্ছায় সমুদ্রবন্দরে গিয়েছিলাম।
๑๒.
১২.
‘‘ตตฺถทฺทสํ ปฏิปเถ, สยมฺภุํ อปราชิตํ;
กนฺตารทฺธานํ ปฏิปนฺนํ, ตตฺตาย กฐินภูมิยา.
সেখানে পথের মধ্যে আমি এক অপরাজিত স্বয়ম্ভূ প্রত্যেকবুদ্ধকে উত্তপ্ত ও কর্কশ ভূমির ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসতে দেখলাম।
๑๓.
১৩.
‘‘ตมหํ ปฏิปเถ ทิสฺวา, อิมมตฺถํ วิจินฺตยึ;
‘อิทํ เขตฺตํ อนุปฺปตฺตํ, ปุญฺญกามสฺส ชนฺตุโน.
পথের মধ্যে তাঁকে দেখে আমি মনে মনে চিন্তা করলাম: 'পুণ্যপ্রত্যাশী জীবের জন্য এই এক উৎকৃষ্ট পুণ্যক্ষেত্র উপস্থিত হয়েছে।'
๑๔.
১৪.
‘‘‘ยถา กสฺสโก ปุริโส, เขตฺตํ ทิสฺวา มหาคมํ;
ตตฺถ พีชํ น โรเปติ, น โส ธญฺเญน อตฺถิโก.
যেমন কোনো কৃষক উর্বর ও শস্যদায়ক জমি দেখেও যদি সেখানে বীজ রোপণ না করে, তবে বুঝতে হবে তার শস্যের প্রয়োজন নেই;
๑๕.
১৫.
‘‘‘เอวเมวาหํ ปุญฺญกาโม, ทิสฺวา เขตฺตวรุตฺตมํ;
ยทิ ตตฺถ การํ น กโรมิ, นาหํ ปุญฺเญน อตฺถิโก.
তদ্রূপ পুণ্যকামী হয়েও আমি যদি এই সর্বোত্তম পুণ্যক্ষেত্ররূপ প্রত্যেকবুদ্ধকে পেয়েও পুণ্য অর্জন না করি, তবে আমার পুণ্যের কোনো প্রয়োজন নেই।
๑๖.
১৬.
‘‘‘ยถา อมจฺโจ มุทฺทิกาโม, รญฺโญ อนฺเตปุเร ชเน;
น เทติ เตสํ ธนธญฺญํ, มุทฺทิโต ปริหายติ.
যেমন রাজকীয় পদমর্যাদা প্রত্যাশী কোনো অমাত্য যদি রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরে বা বাইরের লোকজনকে রাজাজ্ঞা অনুযায়ী ধন-ধান্য প্রদান না করে, তবে সে সেই পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়;
๑๗.
১৭.
‘‘‘เอวเมวาหํ ปุญฺญกาโม, วิปุลํ ทิสฺวาน ทกฺขิณํ;
ยทิ ตสฺส ทานํ น ททามิ, ปริหายิสฺสามิ ปุญฺญโต’.
তদ্রূপ পুণ্যকামী হয়েও আমি যদি এই মহান দক্ষিণীয় ব্যক্তিকে দেখেও দান না করি, তবে আমিও পুণ্যফল থেকে বঞ্চিত হব।
๑๘.
১৮.
‘‘เอวาหํ จินฺตยิตฺวาน, โอโรหิตฺวา อุปาหนา;
ตสฺส ปาทานิ วนฺทิตฺวา, อทาสึ ฉตฺตุปาหนํ.
এইরূপ চিন্তা করে আমি নিজের জুতো খুলে তাঁর চরণে বন্দনা করলাম এবং তাঁকে একটি ছাতা ও এক জোড়া জুতো দান করলাম।
๑๙.
১৯.
‘‘เตเนวาหํ [Pg.387] สตคุณโต, สุขุมาโล สุเขธิโต;
อปิ จ ทานํ ปริปูเรนฺโต, เอวํ ตสฺส อทาสห’’นฺติ.
যদিও আমি শতগুণে সুকুমার ও সুখে লালিত-পালিত ছিলাম, তবুও দানপারমী পূর্ণ করার আকাঙ্ক্ষায় আমি তাঁকে সেই দান করেছিলাম।
สงฺขจริยํ ทุติยํ.
দ্বিতীয় শঙ্খ-চরিয়া সমাপ্ত।
๓. กุรุราชจริยา
৩. কুরুরাজ-চরিয়া
๒๐.
২০.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, อินฺทปตฺเถ ปุรุตฺตเม;
ราชา ธนญฺจโย นาม, กุสเล ทสหุปาคโต.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি ইন্দ্রপ্রস্থ নামক শ্রেষ্ঠ নগরে দশ কুশল ধর্মে দীক্ষিত 'ধনঞ্জয়' নামক রাজা ছিলাম;
๒๑.
২১.
‘‘กลิงฺครฏฺฐวิสยา, พฺราหฺมณา อุปคญฺฉุ มํ;
อายาจุํ มํ หตฺถินาคํ, ธญฺญํ มงฺคลสมฺมตํ.
তখন কলিঙ্গ রাজ্য থেকে কিছু ব্রাহ্মণ আমার নিকট এসে সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের প্রতীকস্বরূপ আমার প্রধান হস্তীটিকে প্রার্থনা করলেন।
๒๒.
২২.
‘‘‘อวุฏฺฐิโก ชนปโท, ทุพฺภิกฺโข ฉาตโก มหา;
ททาหิ ปวรํ นาคํ, นีลํ อญฺชนสวฺหยํ.
'মহারাজ! আমাদের জনপদে অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও চরম ক্ষুধা বিরাজ করছে; দয়া করে আপনার অঞ্জন নামক নীলবর্ণের শ্রেষ্ঠ হস্তীটি আমাদের দান করুন।'
๒๓.
২৩.
‘‘‘น เม ยาจกมนุปฺปตฺเต, ปฏิกฺเขโป อนุจฺฉโว;
มา เม ภิชฺชิ สมาทานํ, ทสฺสามิ วิปุลํ คชํ’.
যাচক উপস্থিত হলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে অনুচিত। আমার দানব্রত যেন ভঙ্গ না হয়; আমি এই বিশাল হস্তীটি দান করব।
๒๔.
২৪.
‘‘นาคํ คเหตฺวา โสณฺฑาย, ภิงฺคาเร รตนามเย;
ชลํ หตฺเถ อากิริตฺวา, พฺราหฺมณานํ อทํ คชํ.
আমি হস্তীটির শুঁড় ধরে রত্নখচিত ভৃঙ্গার থেকে ব্রাহ্মণদের হাতে জল ঢেলে হস্তীটি দান করলাম।
๒๕.
২৫.
‘‘ตสฺส นาเค ปทินฺนมฺหิ, อมจฺจา เอตทพฺรวุํ;
‘กึ นุ ตุยฺหํ วรํ นาคํ, ยาจกานํ ปทสฺสสิ.
সেই হস্তীটি দান করার পর অমাত্যগণ আমাকে বললেন: 'মহারাজ! আপনি কেন যাচকদের এই শ্রেষ্ঠ হস্তীটি দান করলেন?
๒๖.
২৬.
‘‘‘ธญฺญํ มงฺคลสมฺปนฺนํ, สงฺคามวิชยุตฺตมํ;
ตสฺมึ นาเค ปทินฺนมฺหิ, กึ เต รชฺชํ กริสฺสติ.
যা সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের আধার এবং যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার প্রধান মাধ্যম; সেই হস্তীটি দান করার পর আপনার রাজ্য কীভাবে রক্ষা পাবে?'
๒๗.
২৭.
‘‘‘รชฺชมฺปิ เม ทเท สพฺพํ, สรีรํ ทชฺชมตฺตโน;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา นาคํ อทาสห’’’นฺติ.
'হে অমাত্যগণ! আমি আমার সমগ্র রাজ্য এবং এমনকি নিজের শরীরও যাচকদের দান করতে পারি; কারণ সর্বজ্ঞতা জ্ঞানই আমার পরম প্রিয়, তাই আমি এই হস্তীটি দান করেছি।'
กุรุราชจริยํ ตติยํ.
তৃতীয় কুরুরাজ-চরিয়া সমাপ্ত।
๔. มหาสุทสฺสนจริยา
৪. মহাসুদস্সন-চরিয়া
๒๘.
২৮.
‘‘กุสาวติมฺหิ นคเร, ยทา อาสึ มหีปติ;
มหาสุทสฺสโน นาม, จกฺกวตฺตี มหพฺพโล.
যখন আমি কুশাবতী নগরীতে 'মহাসুদস্সন' নামক মহাশক্তিশালী চক্রবর্তী রাজা ছিলাম;
๒๙.
২৯.
‘‘ตตฺถาหํ [Pg.388] ทิวเส ติกฺขตฺตุํ, โฆสาเปมิ ตหึ ตหึ;
‘โก กึ อิจฺฉติ ปตฺเถติ, กสฺส กึ ทียตู ธนํ.
তখন আমি সেখানে প্রতিদিন তিনবার করে সর্বত্র ঘোষণা করাতাম: 'কে কী চান? কার কী আকাঙ্ক্ষা? কাকে কী ধন দেওয়া হবে?
๓๐.
৩০.
‘‘‘โก ฉาตโก โก ตสิโต, โก มาลํ โก วิเลปนํ;
นานารตฺตานิ วตฺถานิ, โก นคฺโค ปริทหิสฺสติ.
কে ক্ষুধার্ত? কে তৃষ্ণার্ত? কার পুষ্পমাল্য প্রয়োজন? কার সুগন্ধি অনুলেপন প্রয়োজন? বস্ত্রহীন কে বিভিন্ন রঙের বস্ত্র পরিধান করতে চান?
๓๑.
৩১.
‘‘‘โก ปเถ ฉตฺตมาเทติ, โกปาหนา มุทู สุภา’;
อิติ สายญฺจ ปาโต จ, โฆสาเปมิ ตหึ ตหึ.
পথে যাওয়ার জন্য কে ছাতা নেবেন? কে সুন্দর ও নরম জুতো নেবেন?'—এইভাবে সকালে ও সন্ধ্যায় সর্বত্র ঘোষণা করাতাম।
๓๒.
৩২.
‘‘น ตํ ทสสุ ฐาเนสุ, นปิ ฐานสเตสุ วา;
อเนกสตฐาเนสุ, ปฏิยตฺตํ ยาจเก ธนํ.
কেবল দশটি বা একশত স্থানে নয়, বরং শত শত স্থানে যাচকদের জন্য ধন-সম্পদ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
๓๓.
৩৩.
‘‘ทิวา วา ยทิ วา รตฺตึ, ยทิ เอติ วนิพฺพโก;
ลทฺธา ยทิจฺฉกํ โภคํ, ปูรหตฺโถว คจฺฉติ.
দিনে বা রাতে যখনই কোনো যাচক আসত, সে তার ইচ্ছানুযায়ী ধন লাভ করে পূর্ণহস্তে ফিরে যেত।
๓๔.
৩৪.
‘‘เอวรูปํ มหาทานํ, อทาสึ ยาวชีวิกํ;
นปาหํ เทสฺสํ ธนํ ทมฺมิ, นปิ นตฺถิ นิจโย มยิ.
আমি আজীবন এই প্রকার মহাদান করেছিলাম; আমি যে ধন অপছন্দ করতাম বলে দান করতাম তা নয়, কিংবা আমার কাছে ধনের সঞ্চয় ছিল না তাও নয়।
๓๕.
৩৫.
‘‘ยถาปิ อาตุโร นาม, โรคโต ปริมุตฺติยา;
ธเนน เวชฺชํ ตปฺเปตฺวา, โรคโต ปริมุจฺจติ.
যেমন কোনো রোগী রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অর্থ দিয়ে চিকিৎসককে সন্তুষ্ট করে রোগমুক্ত হয়;
๓๖.
৩৬.
‘‘ตเถวาหํ ชานมาโน, ปริปูเรตุมเสสโต;
อูนมนํ ปูรยิตุํ, เทมิ ทานํ วนิพฺพเก;
นิราลโย อปจฺจาโส, สมฺโพธิมนุปตฺติยา’’ติ.
তদ্রূপ আমিও দানকে সংসার মুক্তির উপায় জেনে যাচকদের অপূর্ণ মন পূর্ণ করার জন্য এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণরূপে পূরণ করার জন্য কোনো আসক্তি বা প্রত্যাশা ছাড়াই কেবল সম্যকসম্বোধি জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে দান করতাম।
มหาสุทสฺสนจริยํ จตุตฺถํ.
চতুর্থ মহাসুদস্সন-চরিয়া সমাপ্ত।
๕. มหาโควินฺทจริยา
৫. মহাগোবিন্দ-চরিয়া
๓๗.
৩৭.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, สตฺตราชปุโรหิโต;
ปูชิโต นรเทเวหิ, มหาโควินฺทพฺราหฺมโณ.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি সাতজন রাজার পুরোহিত এবং নর ও দেবগণের পূজনীয় 'মহাগোবিন্দ' নামক ব্রাহ্মণ ছিলাম;
๓๘.
৩৮.
‘‘ตทาหํ สตฺตรชฺเชสุ, ยํ เม อาสิ อุปายนํ;
เตน เทมิ มหาทานํ, อกฺโขพฺภํ สาครูปมํ.
তখন সেই সাতটি রাজ্য থেকে আমি যে উপহার ও ধন লাভ করেছিলাম, তা দিয়ে আমি সমুদ্রের ন্যায় অক্ষোভ্য ও বিশাল এক মহাদান করেছিলাম।
๓๙.
৩৯.
‘‘น [Pg.389] เม เทสฺสํ ธนํ ธญฺญํ, นปิ นตฺถิ นิจโย มยิ;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา เทมิ วรํ ธน’’นฺติ.
আমি যে ধন-ধান্য অপছন্দ করতাম তা নয়, কিংবা আমার কাছে ধনের সঞ্চয় ছিল না তাও নয়; সর্বজ্ঞতা জ্ঞানই আমার পরম প্রিয়, তাই আমি এই শ্রেষ্ঠ ধন দান করেছিলাম।
มหาโควินฺทจริยํ ปญฺจมํ.
পঞ্চম মহাগোবিন্দ-চরিয়া সমাপ্ত।
๖. นิมิราชจริยา
৬. নিমিরাজ-চরিয়া
๔๐.
৪০.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, มิถิลายํ ปุรุตฺตเม;
นิมิ นาม มหาราชา, ปณฺฑิโต กุสลตฺถิโก.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি শ্রেষ্ঠ মিথিলা নগরীতে পুণ্যকামী ও প্রাজ্ঞ 'নিমি' নামক মহারাজ ছিলাম;
๔๑.
৪১.
‘‘ตทาหํ มาปยิตฺวาน, จตุสฺสาลํ จตุมฺมุขํ;
ตตฺถ ทานํ ปวตฺเตสึ, มิคปกฺขินราทินํ.
তখন আমি চারদিকে চারটি প্রবেশদ্বারযুক্ত চতুঃশালা নির্মাণ করিয়ে সেখানে পশু, পাখি ও মানুষদের দান প্রদান করেছিলাম।
๔๒.
৪২.
‘‘อจฺฉาทนญฺจ สยนํ, อนฺนํ ปานญฺจ โภชนํ;
อพฺโพจฺฉินฺนํ กริตฺวาน, มหาทานํ ปวตฺตยึ.
বস্ত্র, শয্যা, অন্ন, পানীয় ও ভোজ্যসামগ্রী নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রদান করে আমি এক মহাদানের ব্যবস্থা করেছিলাম।
๔๓.
৪৩.
‘‘ยถาปิ เสวโก สามึ, ธนเหตุมุปาคโต;
กาเยน วาจา มนสา, อาราธนียเมสติ.
যেমন কোনো ভৃত্য ধনের আশায় তার প্রভুর সেবা করতে গিয়ে কায়, বাক্য ও মনে কেবল প্রভুর সন্তুষ্টির উপায় খোঁজে;
๔๔.
৪৪.
‘‘ตเถวาหํ สพฺพภเว, ปริเยสิสฺสามิ โพธิชํ;
ทาเนน สตฺเต ตปฺเปตฺวา, อิจฺฉามิ โพธิมุตฺตม’’นฺติ.
তদ্রূপ আমিও সমস্ত জন্মে বোধিজ্ঞান অন্বেষণ করেছি; দানের মাধ্যমে প্রাণীদের সন্তুষ্ট করে আমি কেবল সেই উত্তম বোধিজ্ঞানই আকাঙ্ক্ষা করি।
นิมิราชจริยํ ฉฏฺฐํ.
ষষ্ঠ নিমিরাজ-চরিয়া সমাপ্ত।
๗. จนฺทกุมารจริยา
৭. চন্দকুমারচর্যা
๔๕.
৪৫.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, เอกราชสฺส อตฺรโช;
นคเร ปุปฺผวติยา, กุมาโร จนฺทสวฺหโย.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি পুষ্পবতী নগরীতে একরাজার পুত্র চন্দকুমার নামক রাজকুমার ছিলাম।
๔๖.
৪৬.
‘‘ตทาหํ ยชนา มุตฺโต, นิกฺขนฺโต ยญฺญวาฏโต;
สํเวคํ ชนยิตฺวาน, มหาทานํ ปวตฺตยึ.
তখন আমি যজ্ঞের বলিদান থেকে মুক্ত হয়ে, যজ্ঞশালা থেকে বের হয়ে মনে সংবেগ উৎপন্ন করে এক মহাদান প্রবর্তন করেছিলাম।
๔๗.
৪৭.
‘‘นาหํ ปิวามิ ขาทามิ, นปิ ภุญฺชามิ โภชนํ;
ทกฺขิเณยฺเย อทตฺวาน, อปิ ฉปฺปญฺจรตฺติโย.
আমি দান গ্রহণকারীদের দান না করে পাঁচ বা sechs রাত পর্যন্ত পানীয় পান করিনি, খাদ্য চর্বণ করিনি এবং ভোজনও গ্রহণ করিনি।
๔๘.
৪৮.
‘‘ยถาปิ [Pg.390] วาณิโช นาม, กตฺวาน ภณฺฑสญฺจยํ;
ยตฺถ ลาโภ มหา โหติ, ตตฺถ ตํ หรติ ภณฺฑกํ.
যেমন কোনো বণিক পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে, যেখানে লাভ বেশি হয়, সেখানে সেই পণ্য নিয়ে যায়—
๔๙.
৪৯.
‘‘ตเถว สกภุตฺตาปิ, ปเร ทินฺนํ มหปฺผลํ;
ตสฺมา ปรสฺส ทาตพฺพํ, สตภาโค ภวิสฺสติ.
তেমনি নিজের ভোজ্য অংশ থেকেও অন্যকে দান করলে তা মহাফলাদায়ক হয়। তাই অন্যকে দেওয়া সামান্য দানও শতগুণ ফলদায়ক হবে।
๕๐.
৫০.
‘‘เอตมตฺถวสํ ญตฺวา, เทมิ ทานํ ภวาภเว;
น ปฏิกฺกมามิ ทานโต, สมฺโพธิมนุปตฺติยา’’ติ.
এই বিশেষ উপকারিতা জেনে আমি বিভিন্ন জন্মে দান করি। সম্যক সম্বোধি লাভের জন্য আমি দান করা থেকে কখনো পিছু হটি না।
จนฺทกุมารจริยํ สตฺตมํ.
সপ্তম চন্দকুমারচর্যা সমাপ্ত।
๘. สิวิราชจริยา
৮. সিবীরাজচর্যা
๕๑.
৫১.
‘‘อริฏฺฐสวฺหเย นคเร, สิวินามาสิ ขตฺติโย;
นิสชฺช ปาสาทวเร, เอวํ จินฺเตสหํ ตทา.
অরিট্ঠ নামক নগরীতে আমি সিবী নামে এক ক্ষত্রিয় রাজা ছিলাম। তখন একদিন শ্রেষ্ঠ প্রাসাদে বসে আমি এভাবে চিন্তা করেছিলাম—
๕๒.
৫২.
‘‘‘ยํ กิญฺจิ มานุสํ ทานํ, อทินฺนํ เม น วิชฺชติ;
โยปิ ยาเจยฺย มํ จกฺขุํ, ทเทยฺยํ อวิกมฺปิโต’.
‘মানুষের দেওয়ার মতো এমন কোনো দান নেই যা আমি দিইনি। যদি কেউ আমার চোখও যাচ্ঞা করে, তবে আমি অবিচলিত চিত্তে তা দান করব।’
๕๓.
৫৩.
‘‘มม สงฺกปฺปมญฺญาย, สกฺโก เทวานมิสฺสโร;
นิสินฺโน เทวปริสาย, อิทํ วจนมพฺรวิ.
আমার এই সংকল্প জেনে দেবরাজ শক্র দেবসভার মধ্যে বসে এই কথা বললেন—
๕๔.
৫৪.
‘‘‘นิสชฺช ปาสาทวเร, สิวิราชา มหิทฺธิโก;
จินฺเตนฺโต วิวิธํ ทานํ, อเทยฺยํ โส น ปสฺสติ.
‘মহাপ্রভাবশালী সিবী রাজা শ্রেষ্ঠ প্রাসাদে বসে নানা প্রকার দানের কথা চিন্তা করছেন, কিন্তু তিনি এমন কোনো দান দেখছেন না যা তিনি দিতে পারেন না।
๕๕.
৫৫.
‘‘‘ตถํ นุ วิตถํ เนตํ, หนฺท วีมํสยามิ ตํ;
มุหุตฺตํ อาคเมยฺยาถ, ยาว ชานามิ ตํ มนํ’.
‘এই সংকল্প সত্য নাকি মিথ্যা, তা আমি পরীক্ষা করে দেখব। আপনারা এক মুহূর্ত অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আমি তাঁর মনের ভাব জানতে পারি।’
๕๖.
৫৬.
‘‘ปเวธมาโน ปลิตสิโร, วลิคตฺโต ชราตุโร;
อนฺธวณฺโณว หุตฺวาน, ราชานํ อุปสงฺกมิ.
তিনি কম্পিত দেহে, পাকা চুলে, কুঞ্চিত চামড়ায়, জরাগ্রস্ত ও অন্ধের রূপ ধারণ করে রাজার কাছে উপস্থিত হলেন।
๕๗.
৫৭.
‘‘โส ตทา ปคฺคเหตฺวาน, วามํ ทกฺขิณพาหุ จ;
สิรสฺมึ อญฺชลึ กตฺวา, อิทํ วจนมพฺรวิ.
তখন তিনি তাঁর বাম ও ডান হাত তুলে মাথায় অঞ্জলি স্থাপন করে এই কথা বললেন—
๕๘.
৫৮.
‘‘‘ยาจามิ ตํ มหาราช, ธมฺมิก รฏฺฐวฑฺฒน;
ตว ทานรตา กิตฺติ, อุคฺคตา เทวมานุเส.
‘হে ধার্মিক ও রাষ্ট্রবর্ধন মহারাজ! আমি আপনার কাছে যাচ্ঞা করছি। আপনার দানশীলতার কীর্তি দেব ও মানবলোকে ছড়িয়ে পড়েছে।
๕๙.
৫৯.
‘‘‘อุโภปิ [Pg.391] เนตฺตา นยนา, อนฺธา อุปหตา มม;
เอกํ เม นยนํ เทหิ, ตฺวมฺปิ เอเกน ยาปย’.
‘আমার উভয় চোখই অন্ধ ও নষ্ট হয়ে গেছে। আমাকে একটি চোখ দান করুন, আপনিও একটি চোখ নিয়ে জীবনযাপন করুন।’
๖๐.
৬০.
‘‘ตสฺสาหํ วจนํ สุตฺวา, หฏฺโฐ สํวิคฺคมานโส;
กตญฺชลี เวทชาโต, อิทํ วจนมพฺรวึ.
তাঁর কথা শুনে আমি আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত চিত্তে হাত জোড় করে এই কথা বললাম—
๖๑.
৬১.
‘‘‘อิทานาหํ จินฺตยิตฺวาน, ปาสาทโต อิธาคโต;
ตฺวํ มม จิตฺตมญฺญาย, เนตฺตํ ยาจิตุมาคโต.
‘আমি এইমাত্র প্রাসাদে বসে যা চিন্তা করেছিলাম, তুমি আমার মনের ভাব জেনে চোখ যাচ্ঞা করতে এখানে এসেছ।
๖๒.
৬২.
‘‘‘อโห เม มานสํ สิทฺธํ, สงฺกปฺโป ปริปูริโต;
อทินฺนปุพฺพํ ทานวรํ, อชฺช ทสฺสามิ ยาจเก.
‘আহা! আমার মনের অভিলাষ পূর্ণ হয়েছে, সংকল্প সফল হয়েছে। পূর্বে কখনো দেওয়া হয়নি এমন শ্রেষ্ঠ দান আজ আমি যাচককে দেব।
๖๓.
৬৩.
‘‘‘เอหิ สิวก อุฏฺเฐหิ, มา ทนฺธยิ มา ปเวธยิ;
อุโภปิ นยนํ เทหิ, อุปฺปาเฏตฺวา วณิพฺพเก’.
‘এসো সীবক, ওঠো, দেরি করো না, কেঁপো না। আমার উভয় চোখ উপড়ে নিয়ে এই যাচককে দান করো।’
๖๔.
৬৪.
‘‘ตโต โส โจทิโต มยฺหํ, สิวโก วจนํ กโร;
อุทฺธริตฺวาน ปาทาสิ, ตาลมิญฺชํว ยาจเก.
তারপর আমার দ্বারা আদিষ্ট হয়ে আজ্ঞাবহ সীবক তালশাঁস তোলার মতো আমার উভয় চোখ উপড়ে নিয়ে যাচককে দান করল।
๖๕.
৬৫.
‘‘ททมานสฺส เทนฺตสฺส, ทินฺนทานสฺส เม สโต;
จิตฺตสฺส อญฺญถา นตฺถิ, โพธิยาเยว การณา.
চোখ উপড়ে নেওয়ার সময়, দান করার সময় এবং দান করার পরেও সম্যক সম্বোধি লাভের উদ্দেশ্যেই কেবল আমার মনের কোনো বিকার বা অনুতাপ হয়নি।
๖๖.
৬৬.
‘‘น เม เทสฺสา อุโภ จกฺขู, อตฺตา น เม น เทสฺสิโย;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา จกฺขุํ อทาสห’’นฺติ.
আমার চোখ দুটি আমার অপ্রিয় ছিল না, নিজের শরীরও আমার অপ্রিয় ছিল না। কিন্তু সর্বজ্ঞতা জ্ঞান আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল, তাই আমি চোখ দান করেছিলাম।
สิวิราชจริยํ อฏฺฐมํ.
অষ্টম সিবীরাজচর্যা সমাপ্ত।
๙. เวสฺสนฺตรจริยา
৯. বেসান্তরচর্যা
๖๗.
৬৭.
‘‘ยา เม อโหสิ ชนิกา, ผุสฺสตี นาม ขตฺติยา;
สา อตีตาสุ ชาตีสุ, สกฺกสฺส มเหสี ปิยา.
যিনি আমার জননী ছিলেন, ফুস্সতী নাম্নী সেই ক্ষত্রিয় রাজকন্যা অতীত জন্মে দেবরাজ শক্রের প্রিয় মহিষী ছিলেন।
๖๘.
৬৮.
‘‘ตสฺสา อายุกฺขยํ ญตฺวา, เทวินฺโท เอตทพฺรวิ;
‘ททามิ เต ทส วเร, วรภทฺเท ยทิจฺฉสิ’.
তাঁর আয়ু শেষ হতে দেখে দেবরাজ শক্র তাঁকে বললেন, ‘হে কল্যাণী! তুমি যদি চাও, তবে তোমাকে দশটি বর দান করছি।’
๖๙.
৬৯.
‘‘เอวํ วุตฺตา จ สา เทวี, สกฺกํ ปุนิทมพฺรวิ;
‘กึ นุ เม อปราธตฺถิ, กึ นุ เทสฺสา อหํ ตว;
รมฺมา จาเวสิ มํ ฐานา, วาโตว ธรณีรุหํ’.
এভাবে বলা হলে সেই দেবী শক্রকে পুনরায় বললেন, ‘আমার কী অপরাধ হয়েছে? আমি কি আপনার অপ্রিয় হয়ে গেছি? বাতাস যেমন বৃক্ষকে উপড়ে ফেলে, তেমনি আপনি আমাকে এই রমণীয় স্থান থেকে চ্যুত করতে চাচ্ছেন কেন?’
๗๐.
৭০.
‘‘เอวํ [Pg.392] วุตฺโต จ โส สกฺโก, ปุน ตสฺสิทมพฺรวิ;
‘น เจว เต กตํ ปาปํ, น จ เม ตฺวํสิ อปฺปิยา.
এভাবে বলা হলে শক্র পুনরায় তাঁকে বললেন, ‘তুমি কোনো পাপ করোনি এবং তুমি আমার অপ্রিয়ও নও।
๗๑.
৭১.
‘‘‘เอตฺตกํเยว เต อายุ, จวนกาโล ภวิสฺสติ;
ปฏิคฺคณฺห มยา ทินฺเน, วเร ทส วรุตฺตเม’.
‘তোমার আয়ু এই পর্যন্তই ছিল, এখন তোমার চ্যুত হওয়ার সময় হয়েছে। আমার দেওয়া এই দশটি শ্রেষ্ঠ বর গ্রহণ করো।’
๗๒.
৭২.
‘‘สกฺเกน สา ทินฺนวรา, ตุฏฺฐหฏฺฐา ปโมทิตา;
มมํ อพฺภนฺตรํ กตฺวา, ผุสฺสตี ทส วเร วรี.
শক্র কর্তৃক বর পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রমোদিত হয়ে ফুস্সতী দেবী আমাকে গর্ভে ধারণ করার বরসহ দশটি বর গ্রহণ করলেন।
๗๓.
৭৩.
‘‘ตโต จุตา สา ผุสฺสตี, ขตฺติเย อุปปชฺชถ;
เชตุตฺตรมฺหิ นคเร, สญฺชเยน สมาคมิ.
তারপর দেবলোক থেকে চ্যুত হয়ে ফুস্সতী ক্ষত্রিয় কুলে জন্মগ্রহণ করলেন এবং জেতুত্তর নগরীতে সঞ্জয় রাজার মহিষী হলেন।
๗๔.
৭৪.
‘‘ยทาหํ ผุสฺสติยา กุจฺฉึ, โอกฺกนฺโต ปิยมาตุยา;
มม เตเชน เม มาตา, สทา ทานรตา อหุ.
যখন আমি প্রিয় মাতা ফুস্সতীর গর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করলাম, তখন আমার প্রভাবে আমার মাতা সর্বদা দানকর্মে রত থাকতেন।
๗๕.
৭৫.
‘‘อธเน อาตุเร ชิณฺเณ, ยาจเก อทฺธิเก ชเน;
สมเณ พฺราหฺมเณ ขีเณ, เทติ ทานํ อกิญฺจเน.
তিনি দরিদ্র, রুগ্ন, বৃদ্ধ, যাচক, পথিক, শ্রমণ, ব্রাহ্মণ এবং নিঃস্ব ব্যক্তিদের দান করতেন।
๗๖.
৭৬.
‘‘ทส มาเส ธารยิตฺวาน, กโรนฺเต ปุรํ ปทกฺขิณํ;
เวสฺสานํ วีถิยา มชฺเฌ, ชเนสิ ผุสฺสตี มมํ.
দশ মাস গর্ভে ধারণ করার পর, নগর প্রদক্ষিণ করার সময় বৈশ্যদের পথের মাঝে ফুস্সতী আমাকে প্রসব করলেন।
๗๗.
৭৭.
‘‘น มยฺหํ มตฺติกํ นามํ, นปิ เปตฺติกสมฺภวํ;
ชาเตตฺถ เวสฺสวีถิยา, ตสฺมา เวสฺสนฺตโร อหุ.
আমার নাম মাতৃকুল বা পিতৃকুল থেকে রাখা হয়নি। যেহেতু আমি বৈশ্যদের পথে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, তাই আমার নাম হয়েছিল ‘বেসান্তর’।
๗๘.
৭৮.
‘‘ยทาหํ ทารโก โหมิ, ชาติยา อฏฺฐวสฺสิโก;
ตทา นิสชฺช ปาสาเท, ทานํ ทาตุํ วิจินฺตยึ.
যখন আমি মাত্র আট বছর বয়সের বালক ছিলাম, তখন প্রাসাদে বসে দান করার কথা চিন্তা করেছিলাম—
๗๙.
৭৯.
‘‘‘หทยํ ทเทยฺยํ จกฺขุํ, มํสมฺปิ รุธิรมฺปิ จ;
ทเทยฺยํ กายํ สาเวตฺวา, ยทิ โกจิ ยาจเย มมํ’.
‘যদি কেউ আমার কাছে যাচ্ঞা করে, তবে আমি আমার হৃদয়, চোখ, মাংস ও রক্ত দান করব। এমনকি কেউ চাইলে নিজেকে দাস হিসেবে ঘোষণা করে নিজের শরীরও দান করে দেব।’
๘๐.
৮০.
‘‘สภาวํ จินฺตยนฺตสฺส, อกมฺปิตมสณฺฐิตํ;
อกมฺปิ ตตฺถ ปถวี, สิเนรุวนวฏํสกา.
আমার এই অবিচলিত ও দৃঢ় সংকল্পের কথা চিন্তা করার সময় সুমেরু পর্বতরূপ মুকুট পরিহিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๘๑.
৮১.
‘‘อนฺวทฺธมาเส ปนฺนรเส, ปุณฺณมาเส อุโปสเถ;
ปจฺจยํ นาคมารุยฺห, ทานํ ทาตุํ อุปาคมึ.
প্রতি পক্ষকালের পঞ্চদশী তিথিতে, পূর্ণিমার উপোসথ দিবসে, আমি পচ্চয় নামক হাতিতে আরোহণ করে দান করার জন্য দানশালায় গিয়েছিলাম।
๘๒.
৮২.
‘‘กลิงฺครฏฺฐวิสยา, พฺราหฺมณา อุปคญฺฉุ มํ;
อยาจุํ มํ หตฺถินาคํ, ธญฺญํ มงฺคลสมฺมตํ.
কলিঙ্গ রাষ্ট্র থেকে ব্রাহ্মণরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা আমার কাছে শস্য ও মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত সেই হস্তীশ্রেষ্ঠকে যাচ্ঞা করলেন।
๘๓.
৮৩.
‘‘อวุฏฺฐิโก [Pg.393] ชนปโท, ทุพฺภิกฺโข ฉาตโก มหา;
ททาหิ ปวรํ นาคํ, สพฺพเสตํ คชุตฺตมํ.
‘আমাদের জনপদে বৃষ্টি নেই, দুর্ভিক্ষ ও চরম ক্ষুধা বিরাজ করছে। দয়া করে আপনার সর্বাঙ্গশ্বেত এই শ্রেষ্ঠ হাতিটি আমাদের দান করুন।’
๘๔.
৮৪.
‘‘ททามิ น วิกมฺปามิ, ยํ มํ ยาจนฺติ พฺราหฺมณา;
สนฺตํ นปฺปติคูหามิ, ทาเน เม รมเต มโน.
ব্রাহ্মণরা আমার কাছে যা যাচ্ঞা করছেন, আমি তা দান করব, দ্বিধা করব না। আমার যা আছে তা আমি গোপন করব না, দানেই আমার মন আনন্দ পায়।
๘๕.
৮৫.
‘‘น เม ยาจกมนุปฺปตฺเต, ปฏิกฺเขโป อนุจฺฉโว;
‘มา เม ภิชฺชิ สมาทานํ, ทสฺสามิ วิปุลํ คชํ’.
যাচক উপস্থিত হলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে অনুচিত। ‘আমার দান সংকল্প যেন ভঙ্গ না হয়, আমি এই বিশাল হাতিটি দান করব’—
๘๖.
৮৬.
‘‘นาคํ คเหตฺวา โสณฺฑาย, ภิงฺคาเร รตนามเย;
ชลํ หตฺเถ อากิริตฺวา, พฺราหฺมณานํ อทํ คชํ.
হাতির শুঁড় ধরে রত্নখচিত ভৃঙ্গার থেকে ব্রাহ্মণদের হাতে জল ঢেলে দিয়ে আমি হাতিটি দান করলাম।
๘๗.
৮৭.
‘‘ปุนาปรํ ททนฺตสฺส, สพฺพเสตํ คชุตฺตมํ;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
আবার সেই সর্বাঙ্গশ্বেত শ্রেষ্ঠ হাতিটি দান করার সময়ও সুমেরু পর্বতরূপ মুকুট পরিহিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๘๘.
৮৮.
‘‘ตสฺส นาคสฺส ทาเนน, สิวโย กุทฺธา สมาคตา;
ปพฺพาเชสุํ สกา รฏฺฐา, ‘วงฺกํ คจฺฉตุ ปพฺพตํ’.
সেই হাতি দান করার কারণে সিবী দেশের নাগরিকরা ক্রুদ্ধ হয়ে সমবেত হলেন এবং ‘সে বঙ্ক পর্বতে চলে যাক’ বলে আমাকে নিজের রাজ্য থেকে নির্বাসিত করলেন।
๘๙.
৮৯.
‘‘เตสํ นิจฺฉุภมานานํ, อกมฺปิตฺถมสณฺฐิตํ;
มหาทานํ ปวตฺเตตุํ, เอกํ วรมยาจิสํ.
তাঁরা যখন আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও আমি অবিচলিত ও দৃঢ় চিত্তে এক মহাদান সম্পন্ন করার জন্য একটি বর প্রার্থনা করেছিলাম।
๙๐.
৯০.
‘‘ยาจิตา สิวโย สพฺเพ, เอกํ วรมทํสุ เม;
สาวยิตฺวา กณฺณเภรึ, มหาทานํ ททามหํ.
আমার প্রার্থনায় সিবী দেশের সকলে আমাকে সেই একটি বর দিলেন। তখন আমি ভেরী বাজিয়ে ঘোষণা করে মহাদান সম্পন্ন করলাম।
๙๑.
৯১.
‘‘อเถตฺถ วตฺตตี สทฺโท, ตุมุโล เภรโว มหา;
ทาเนนิมํ นีหรนฺติ, ปุน ทานํ ททาตยํ.
তখন দানশালায় এক তুমুল ও ভয়ানক কোলাহল সৃষ্টি হলো—‘এই দান করার কারণেই একে নির্বাসিত করা হচ্ছে, অথচ সে আবার দান করছে!’
๙๒.
৯২.
‘‘หตฺถึ อสฺเส รเถ ทตฺวา, ทาสึ ทาสํ ควํ ธนํ;
มหาทานํ ททิตฺวาน, นครา นิกฺขมึ ตทา.
হাতি, ঘোড়া, রথ, দাস-দাসী, গাভী ও ধনসম্পদ মহাদান করে তখন আমি নগর থেকে বের হলাম।
๙๓.
৯৩.
‘‘นิกฺขมิตฺวาน นครา, นิวตฺติตฺวา วิโลกิเต;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
নগর থেকে বের হয়ে যখন আমি পিছন ফিরে তাকালাম, তখনও সুমেরু পর্বতরূপ মুকুট পরিহিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๙๔.
৯৪.
‘‘จตุวาหึ รถํ ทตฺวา, ฐตฺวา จาตุมฺมหาปเถ;
เอกากิโย อทุติโย, มทฺทิเทวึ อิทมพฺรวึ.
চার ঘোড়ায় টানা রথটিও দান করে চতুষ্পথে দাঁড়িয়ে আমি একাকী ও সঙ্গীহীন অবস্থায় মদ্দী দেবীকে এই কথা বললাম—
๙๕.
৯৫.
‘‘‘ตฺวํ มทฺทิ กณฺหํ คณฺหาหิ, ลหุกา เอสา กนิฏฺฐิกา;
อหํ ชาลึ คเหสฺสามิ, ครุโก ภาติโก หิ โส’.
‘হে মদ্দী! তুমি কণহাজিনাকে কোলে নাও, সে ছোট এবং হালকা। আমি জালীকে কোলে নেব, সে বড় ভাই এবং ভারী।’
๙๖.
৯৬.
‘‘ปทุมํ [Pg.394] ปุณฺฑรีกํว, มทฺที กณฺหาชินคฺคหี;
อหํ สุวณฺณพิมฺพํว, ชาลึ ขตฺติยมคฺคหึ.
মদ্দী পদ্ম ও পুণ্ডরীক ফুলের মতো সুকোমল কণহাজিনাকে কোলে নিলেন, আর আমি স্বর্ণমূর্তির মতো জালী রাজকুমারকে কোলে নিলাম।
๙๗.
৯৭.
‘‘อภิชาตา สุขุมาลา, ขตฺติยา จตุโร ชนา;
วิสมํ สมํ อกฺกมนฺตา, วงฺกํ คจฺฉาม ปพฺพตํ.
উচ্চ বংশজাত, সুকোমল ও রাজকীয় আমরা চারজন অসম ও সম পথ মাড়িয়ে বঙ্ক পর্বতের দিকে যাত্রা করলাম।
๙๘.
৯৮.
‘‘เย เกจิ มนุชา เอนฺติ, อนุมคฺเค ปฏิปฺปเถ;
มคฺคนฺเต ปฏิปุจฺฉาม, ‘กุหึ วงฺกนฺต ปพฺพโต’.
পথে বা বিপরীত দিক থেকে যে সব মানুষ আসছিলেন, আমরা তাঁদের পথ জিজ্ঞেস করছিলাম—‘বঙ্ক পর্বতটি কোথায়?’
๙๙.
৯৯.
‘‘เต ตตฺถ อมฺเห ปสฺสิตฺวา, กรุณํ คิรมุทีรยุํ;
ทุกฺขํ เต ปฏิเวเทนฺติ, ทูเร วงฺกนฺตปพฺพโต.
তাঁরা আমাদের সেখানে দেখে করুণ স্বরে বললেন এবং আমাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানালেন—‘বঙ্ক পর্বতটি অনেক দূরে।’
๑๐๐.
১০০.
‘‘ยทิ ปสฺสนฺติ ปวเน, ทารกา ผลิเน ทุเม;
เตสํ ผลานํ เหตุมฺหิ, อุปโรทนฺติ ทารกา.
যদি বনের মধ্যে সন্তানদ্বয় ফলবান বৃক্ষসমূহ দেখতে পেত, তবে সেই ফলগুলোর জন্য তারা কেঁদে উঠত।
๑๐๑.
১০১.
‘‘โรทนฺเต ทารเก ทิสฺวา, อุพฺพิทฺธา วิปุลา ทุมา;
สยเมโวณมิตฺวาน, อุปคจฺฉนฺติ ทารเก.
ক্রন্দনরত সন্তানদের দেখে অত্যন্ত উঁচু ও বিশাল বৃক্ষসমূহ নিজে থেকেই অবনত হয়ে সন্তানদের নিকটবর্তী হতো।
๑๐๒.
১০২.
‘‘อิทํ อจฺฉริยํ ทิสฺวา, อพฺภุตํ โลมหํสนํ;
สาหุการํ ปวตฺเตสิ, มทฺที สพฺพงฺคโสภนา.
সর্বাঙ্গসুন্দরী মাদ্রী দেবী এই রোমহর্ষক ও অদ্ভুত আশ্চর্য ঘটনা দেখে সাধুবাদ প্রদান করেছিলেন।
๑๐๓.
১০৩.
‘‘อจฺเฉรํ วต โลกสฺมึ, อพฺภุตํ โลมหํสนํ;
เวสฺสนฺตรสฺส เตเชน, สยเมโวณตา ทุมา.
‘জগতে কী আশ্চর্য! কী অদ্ভুত ও রোমহর্ষক ঘটনা! মহারাজ বিশ্বন্তরের প্রতাপে বৃক্ষসমূহ নিজে থেকেই অবনত হয়ে পড়েছে!’ (এই বলে তিনি সাধুবাদ দিয়েছিলেন)।
๑๐๔.
১০৪.
‘‘สงฺขิปึสุ ปถํ ยกฺขา, อนุกมฺปาย ทารเก;
นิกฺขนฺตทิวเสเนว, เจตรฏฺฐมุปาคมุํ.
সন্তানদের প্রতি অনুকম্পাবশত যক্ষগণ (দেবতারা) পথ সংক্ষেপ করে দিয়েছিলেন; ফলে রাজ্য থেকে বের হওয়ার দিনেই তাঁরা চেত রাষ্ট্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
๑๐๕.
১০৫.
‘‘สฏฺฐิราชสหสฺสานิ, ตทา วสนฺติ มาตุเล;
สพฺเพ ปญฺชลิกา หุตฺวา, โรทมานา อุปาคมุํ.
তখন মাতুল বংশের ষাট হাজার রাজা চেত রাষ্ট্রে বাস করতেন; তাঁরা সকলেই করজোড়ে ক্রন্দন করতে করতে আমাদের নিকট এসেছিলেন।
๑๐๖.
১০৬.
‘‘ตตฺถ วตฺเตตฺวา สลฺลาปํ, เจเตหิ เจตปุตฺเตหิ;
เต ตโต นิกฺขมิตฺวาน, วงฺกํ อคมุ ปพฺพตํ.
সেখানে চেত রাজন্যবর্গ ও রাজপুত্রদের সাথে কুশল বিনিময় করে, তাঁদের বিদায় জানিয়ে আমরা চারজন বঙ্ক পর্বতের দিকে যাত্রা করলাম।
๑๐๗.
১০৭.
‘‘อามนฺตยิตฺวา เทวินฺโท, วิสฺสกมฺมํ มหิทฺธิกํ;
อสฺสมํ สุกตํ รมฺมํ, ปณฺณสาลํ สุมาปย.
তখন দেবরাজ ইন্দ্র মহাশক্তিশালী বিশ্বকর্মাকে ডেকে আদেশ দিলেন, ‘তুমি একটি সুনির্মিত, মনোরম আশ্রম ও পর্ণকুটির নির্মাণ করো।’
๑๐๘.
১০৮.
‘‘สกฺกสฺส วจนํ สุตฺวา, วิสฺสกมฺโม มหิทฺธิโก;
อสฺสมํ สุกตํ รมฺมํ, ปณฺณสาลํ สุมาปยิ.
দেবরাজ ইন্দ্রের কথা শুনে মহাশক্তিশালী বিশ্বকর্মা একটি সুনির্মিত ও মনোরম আশ্রম ও পর্ণকুটির সৃষ্টি করলেন।
๑๐๙.
১০৯.
‘‘อชฺโฌคาเหตฺวา [Pg.395] ปวนํ, อปฺปสทฺทํ นิรากุลํ;
จตุโร ชนา มยํ ตตฺถ, วสาม ปพฺพตนฺตเร.
আমরা চারজন কোলাহলহীন ও শান্ত সেই অরণ্যে প্রবেশ করে বঙ্ক পর্বতের উপত্যকায় বসবাস করতে লাগলাম।
๑๑๐.
১১০.
‘‘อหญฺจ มทฺทิเทวี จ, ชาลี กณฺหาชินา จุโภ;
อญฺญมญฺญํ โสกนุทา, วสาม อสฺสเม ตทา.
তখন আমি, মাদ্রী দেবী এবং জালী ও কৃষ্ণাজিন—আমরা উভয়ে একে অপরের শোক দূর করে সেই আশ্রমে বাস করতে লাগলাম।
๑๑๑.
১১১.
‘‘ทารเก อนุรกฺขนฺโต, อสุญฺโญ โหมิ อสฺสเม;
มทฺที ผลํ อาหริตฺวา, โปเสติ สา ตโย ชเน.
আমি আশ্রমে থেকে সন্তানদের রক্ষা করতাম এবং আশ্রমকে জনশূন্য হতে দিতাম না; আর মাদ্রী দেবী বন্য ফলমূল সংগ্রহ করে এনে আমাদের তিনজনকে প্রতিপালন করতেন।
๑๑๒.
১১২.
‘‘ปวเน วสมานสฺส, อทฺธิโก มํ อุปาคมิ;
อายาจิ ปุตฺตเก มยฺหํ, ชาลึ กณฺหาชินํ จุโภ.
অরণ্যে বসবাসকালে এক পরিব্রাজক (যুজক ব্রাহ্মণ) আমার নিকট উপস্থিত হলো এবং আমার দুই সন্তান জালী ও কৃষ্ণাজিনকে ভিক্ষা চাইল।
๑๑๓.
১১৩.
‘‘ยาจกํ อุปคตํ ทิสฺวา, หาโส เม อุปปชฺชถ;
อุโภ ปุตฺเต คเหตฺวาน, อทาสึ พฺราหฺมเณ ตทา.
যাচককে উপস্থিত হতে দেখে আমার মনে অত্যন্ত আনন্দের উদয় হলো; তখন আমি আমার দুই সন্তানকে ডেকে সেই ব্রাহ্মণকে দান করলাম।
๑๑๔.
১১৪.
‘‘สเก ปุตฺเต จชนฺตสฺส, ชูชเก พฺราหฺมเณ ยทา;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
যখন আমি যুজক ব্রাহ্মণকে নিজের সন্তানদের দান করছিলাম, তখনও সুমেরু পর্বতরূপ অলঙ্কারে ভূষিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๑๑๕.
১১৫.
‘‘ปุนเทว สกฺโก โอรุยฺห, หุตฺวา พฺราหฺมณสนฺนิโภ;
อายาจิ มํ มทฺทิเทวึ, สีลวนฺตึ ปติพฺพตํ.
পুনরায় দেবরাজ ইন্দ্র স্বর্গ থেকে নেমে ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসলেন এবং শীলবতী ও পতিব্রতা মাদ্রী দেবীকে ভিক্ষা চাইলেন।
๑๑๖.
১১৬.
‘‘มทฺทึ หตฺเถ คเหตฺวาน, อุทกญฺชลิ ปูริย;
ปสนฺนมนสงฺกปฺโป, ตสฺส มทฺทึ อทาสหํ.
আমি প্রসন্ন চিত্তে ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাদ্রীর হাত ধরে, জল ঢেলে ব্রাহ্মণের অঞ্জলি পূর্ণ করে তাঁকে মাদ্রীকে দান করলাম।
๑๑๗.
১১৭.
‘‘มทฺทิยา ทียมานาย, คคเน เทวา ปโมทิตา;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
যখন মাদ্রী দেবীকে দান করা হচ্ছিল, তখন আকাশের দেবতারা আনন্দিত হয়েছিলেন; তখনও সুমেরু পর্বতরূপ অলঙ্কারে ভূষিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๑๑๘.
১১৮.
‘‘ชาลึ กณฺหาชินํ ธีตํ, มทฺทิเทวึ ปติพฺพตํ;
จชมาโน น จินฺเตสึ, โพธิยาเยว การณา.
পুত্র জালী, কন্যা কৃষ্ণাজিন এবং পতিব্রতা মাদ্রী দেবীকে দান করার সময় আমি অনুশোচনা করিনি, কেবল সম্যকসম্বোধি লাভের উদ্দেশ্যেই আমি তা করেছিলাম।
๑๑๙.
১১৯.
‘‘น เม เทสฺสา อุโภ ปุตฺตา, มทฺทิเทวี น เทสฺสิยา;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา ปิเย อทาสหํ.
আমার দুই সন্তান আমার অপ্রিয় ছিল না, মাদ্রী দেবীও আমার অপ্রিয় ছিলেন না; কিন্তু সর্বজ্ঞতা জ্ঞান আমার নিকট অধিকতর প্রিয় ছিল, তাই আমি আমার প্রিয়জনদের দান করেছিলাম।
๑๒๐.
১২০.
‘‘ปุนาปรํ พฺรหารญฺเญ, มาตาปิตุสมาคเม;
กรุณํ ปริเทวนฺเต, สลฺลปนฺเต สุขํ ทุขํ.
অতঃপর পুনরায় সেই মহাবনে পিতা-মাতার সাথে মিলন হলো; তাঁরা করুণভাবে ক্রন্দন করছিলেন এবং আমরা সুখ-দুঃখের আলাপ করছিলাম।
๑๒๑.
১২১.
‘‘หิโรตฺตปฺเปน ครุนา, อุภินฺนํ อุปสงฺกมิ;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
আমি হিরি ও ওত্তাপ্প সহকারে পরম শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের উভয়ের নিকট উপস্থিত হলাম; তখনও সুমেরু পর্বতরূপ অলঙ্কারে ভূষিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๑๒๒.
১২২.
‘‘ปุนาปรํ [Pg.396] พฺรหารญฺญา, นิกฺขมิตฺวา สญาติภิ;
ปวิสามิ ปุรํ รมฺมํ, เชตุตฺตรํ ปุรุตฺตมํ.
অতঃপর পুনরায় আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মহাবন থেকে বের হয়ে আমি মনোরম ও সর্বশ্রেষ্ঠ জেতুত্তরা নগরীতে প্রবেশ করলাম।
๑๒๓.
১২৩.
‘‘รตนานิ สตฺต วสฺสึสุ, มหาเมโฆ ปวสฺสถ;
ตทาปิ ปถวี กมฺปิ, สิเนรุวนวฏํสกา.
সেদিন সপ্তরত্নের বৃষ্টি হয়েছিল এবং মহামেঘ বর্ষণ করেছিল; তখনও সুমেরু পর্বতরূপ অলঙ্কারে ভূষিত এই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।
๑๒๔.
১২৪.
‘‘อเจตนายํ ปถวี, อวิญฺญาย สุขํ ทุขํ;
สาปิ ทานพลา มยฺหํ, สตฺตกฺขตฺตุํ ปกมฺปถา’’ติ.
এই অচেতন পৃথিবী সুখ বা দুঃখ কিছুই বোঝে না; তবুও আমার দানপ্রভাবে এটি সাতবার প্রকম্পিত হয়েছিল।
เวสฺสนฺตรจริยํ นวมํ.
নবম: বিশ্বন্তর-চরিয় সমাপ্ত।
๑๐. สสปณฺฑิตจริยา
১০. শশ-পণ্ডিত চরিয় (খরগোশ পণ্ডিতের আচরণ)
๑๒๕.
১২৫.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, สสโก ปวนจารโก;
ติณปณฺณสากผลภกฺโข, ปรเหฐนวิวชฺชิโต.
অন্য এক জন্মে আমি যখন বনে বিচরণকারী এক খরগোশ ছিলাম, তখন আমি ঘাস, পাতা, শাক ও ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করতাম এবং পরপীড়ন থেকে বিরত থাকতাম।
๑๒๖.
১২৬.
‘‘มกฺกโฏ จ สิงฺคาโล จ, สุตฺตโปโต จหํ ตทา;
วสาม เอกสามนฺตา, สายํ ปาโต จ ทิสฺสเร.
তখন একটি বানর, একটি শৃগাল, একটি উদবিড়াল এবং আমি—আমরা কাছাকাছি একসাথেই বাস করতাম এবং সকাল-সন্ধ্যায় একে অপরের সাথে মিলিত হতাম।
๑๒๗.
১২৭.
‘‘อหํ เต อนุสาสามิ, กิริเย กลฺยาณปาปเก;
‘ปาปานิ ปริวชฺเชถ, กลฺยาเณ อภินิวิสฺสถ’.
আমি তাদের কুশল ও অকুশল কর্মের বিষয়ে উপদেশ দিতাম—‘তোমরা পাপকর্ম বর্জন করো এবং কুশলকর্মে মনোনিবেশ করো।’
๑๒๘.
১২৮.
‘‘อุโปสถมฺหิ ทิวเส, จนฺทํ ทิสฺวาน ปูริตํ;
เอเตสํ ตตฺถ อาจิกฺขึ, ทิวโส อชฺชุโปสโถ.
উপোসথ দিনে পূর্ণচন্দ্র দেখে আমি তাদের বলতাম, ‘আজ উপোসথ ব্রত পালনের দিন।’
๑๒๙.
১২৯.
‘‘ทานานิ ปฏิยาเทถ, ทกฺขิเณยฺยสฺส ทาตเว;
ทตฺวา ทานํ ทกฺขิเณยฺเย, อุปวสฺสถุโปสถํ.
‘তোমরা দানীয় ব্যক্তিকে দান করার জন্য দানসামগ্রী প্রস্তুত করো এবং দানীয় ব্যক্তিকে দান করে উপোসথ ব্রত পালন করো।’
๑๓๐.
১৩০.
‘‘เต เม สาธูติ วตฺวาน, ยถาสตฺติ ยถาพลํ;
ทานานิ ปฏิยาเทตฺวา, ทกฺขิเณยฺยํ คเวสิสุํ.
তারা আমার কথাকে ‘উত্তম’ বলে স্বীকার করে নিজেদের সাধ্য ও শক্তি অনুযায়ী দানসামগ্রী প্রস্তুত করল এবং দান গ্রহণকারী সৎপাত্রের সন্ধান করতে লাগল।
๑๓๑.
১৩১.
‘‘อหํ นิสชฺช จินฺเตสึ, ทานํ ทกฺขิณนุจฺฉวํ;
‘ยทิหํ ลเภ ทกฺขิเณยฺยํ, กึ เม ทานํ ภวิสฺสติ.
আমি বসে বসে চিন্তা করতে লাগলাম যে, দানীয় ব্যক্তির উপযুক্ত কী দান আমি করতে পারি? ‘যদি আমি কোনো দান গ্রহণকারী সৎপাত্রের দেখা পাই, তবে আমার দান করার মতো কী বস্তু আছে?’
๑๓๒.
১৩২.
‘‘‘น เม อตฺถิ ติลา มุคฺคา, มาสา วา ตณฺฑุลา ฆตํ;
อหํ ติเณน ยาเปมิ, น สกฺกา ติณ ทาตเว.
‘আমার তো তিল, মুগ ডাল, মাষকলাই, চাল বা ঘি কিছুই নেই; আমি কেবল ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকি, আর ঘাস তো কাউকে দান করা যায় না।’
๑๓๓.
১৩৩.
‘‘‘ยทิ [Pg.397] โกจิ เอติ ทกฺขิเณยฺโย, ภิกฺขาย มม สนฺติเก;
ทชฺชาหํ สกมตฺตานํ, น โส ตุจฺโฉ คมิสฺสติ’.
‘যদি কোনো দান গ্রহণকারী সৎপাত্র আমার নিকট আহারের সন্ধানে আসেন, তবে আমি নিজের শরীরই দান করে দেব; তিনি যেন শূন্যহাতে ফিরে না যান।’
๑๓๔.
১৩৪.
‘‘มม สงฺกปฺปมญฺญาย, สกฺโก พฺราหฺมณวณฺณินา;
อาสยํ เม อุปาคจฺฉิ, ทานวีมํสนาย เม.
আমার এই সংকল্প জানতে পেরে দেবরাজ ইন্দ্র ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করে আমার দানশীলতা পরীক্ষা করার জন্য আমার বাসস্থানে আসলেন।
๑๓๕.
১৩৫.
‘‘ตมหํ ทิสฺวาน สนฺตุฏฺโฐ, อิทํ วจนมพฺรวึ;
‘สาธุ โขสิ อนุปฺปตฺโต, ฆาสเหตุ มมนฺติเก.
তাঁকে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে এই কথা বললাম, ‘হে দানীয় ব্যক্তি! আহারের সন্ধানে আমার নিকট আপনার আগমন অত্যন্ত শুভ হয়েছে।’
๑๓๖.
১৩৬.
‘‘‘อทินฺนปุพฺพํ ทานวรํ, อชฺช ทสฺสามิ เต อหํ;
ตุวํ สีลคุณูเปโต, อยุตฺตํ เต ปรเหฐนํ.
‘আজ আমি আপনাকে এমন এক শ্রেষ্ঠ দান দেব যা পূর্বে কখনো দিইনি; আপনি শীলগুণে গুণান্বিত, তাই আপনার পক্ষে অন্য কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া অনুচিত।’
๑๓๗.
১৩৭.
‘‘‘เอหิ อคฺคึ ปทีเปหิ, นานากฏฺเฐ สมานย;
อหํ ปจิสฺสมตฺตานํ, ปกฺกํ ตฺวํ ภกฺขยิสฺสสิ’.
‘আসুন, বিভিন্ন প্রকার কাঠ সংগ্রহ করে আগুন জ্বালিয়ে দিন; আমি নিজে সেই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজের শরীরকে রান্না করব, আর আপনি সেই সুপক্ব মাংস ভক্ষণ করবেন।’
๑๓๘.
১৩৮.
‘‘‘สาธู’ติ โส หฏฺฐมโน, นานากฏฺเฐ สมานยิ;
มหนฺตํ อกาสิ จิตกํ, กตฺวา องฺคารคพฺภกํ.
ব্রাহ্মণরূপী ইন্দ্র ‘উত্তম’ বলে আনন্দিত চিত্তে বিভিন্ন কাঠ সংগ্রহ করলেন এবং ভেতরে জ্বলন্ত কয়লা রেখে একটি বিশাল চিতা প্রস্তুত করলেন।
๑๓๙.
১৩৯.
‘‘อคฺคึ ตตฺถ ปทีเปสิ, ยถา โส ขิปฺปํ มหา ภเว;
โผเฏตฺวา รชคเต คตฺเต, เอกมนฺตํ อุปาวิสึ.
তিনি সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন যাতে তা দ্রুত প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে; আমি আমার শরীরের ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলে একপাশে গিয়ে বসলাম।
๑๔๐.
১৪০.
‘‘ยทา มหากฏฺฐปุญฺโช, อาทิตฺโต ธมธมายติ ;
ตทุปฺปติตฺวา ปปตึ, มชฺเฌ ชาลสิขนฺตเร.
যখন সেই চিতাটি দাউদাউ করে জ্বলে উঠল, তখন আমি লাফ দিয়ে সেই জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়লাম।
๑๔๑.
১৪১.
‘‘ยถา สีโตทกํ นาม, ปวิฏฺฐํ ยสฺส กสฺสจิ;
สเมติ ทรถปริฬาหํ, อสฺสาทํ เทติ ปีติ จ.
শীতল জল যেমন কোনো প্রবেশকারীর শরীরের ক্লান্তি ও উত্তাপ দূর করে পরম তৃপ্তি ও আনন্দ প্রদান করে—
๑๔๒.
১৪২.
‘‘ตเถว ชลิตํ อคฺคึ, ปวิฏฺฐสฺส มมํ ตทา;
สพฺพํ สเมติ ทรถํ, ยถา สีโตทกํ วิย.
ঠিক তেমনি, সেই প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করার পর আমার সমস্ত উত্তাপ ও কষ্ট দূর হয়ে গেল, যেন আমি শীতল জলেই প্রবেশ করেছি।
๑๔๓.
১৪৩.
‘‘ฉวึ จมฺมํ มํสํ นฺหารุํ, อฏฺฐึ หทยพนฺธนํ;
เกวลํ สกลํ กายํ, พฺราหฺมณสฺส อทาสห’’นฺติ.
আমি আমার ত্বক, চামড়া, মাংস, শিরা, হাড় এবং হৃদপিণ্ডসহ সমগ্র শরীরটি সেই ব্রাহ্মণকে সম্পূর্ণভাবে দান করে দিলাম।
สสปณฺฑิตจริยํ ทสมํ.
দশম: শশ-পণ্ডিত চরিয় সমাপ্ত।
อกิตฺติวคฺโค ปฐโม.
প্রথম অধ্যায়: অকিত্তি-বর্গ সমাপ্ত।
ตสฺสุทฺทานํ –
এর সংক্ষিপ্ত সূচী—
อกิตฺติพฺราหฺมโณ [Pg.398] สงฺโข, กุรุราชา ธนญฺจโย;
มหาสุทสฺสโน ราชา, มหาโควินฺทพฺราหฺมโณ.
অকিত্তি ব্রাহ্মণ, শঙ্খ ব্রাহ্মণ, কুরুরাজ ধনঞ্জয়, মহারাজা মহাসুদর্শন, মহাগোবিন্দ ব্রাহ্মণ,
นิมิ จนฺทกุมาโร จ, สิวิ เวสฺสนฺตโร สโส;
อหเมว ตทา อาสึ, โย เต ทานวเร อทา.
নিমি রাজর্ষি, চন্দ্রকুমার, শিবি রাজা, বিশ্বন্তর এবং শশ-পণ্ডিত—সে সময়ে আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি, যিনি এই সকল শ্রেষ্ঠ দান করেছিলেন।
เอเต ทานปริกฺขารา, เอเต ทานสฺส ปารมี;
ชีวิตํ ยาจเก ทตฺวา, อิมํ ปารมิ ปูรยึ.
এই সকল দান ছিল দানপারমীর অঙ্গ ও দানপারমী স্বরূপ; আর শশ-পণ্ডিতের জন্মে যাচককে নিজের জীবন দান করে আমি এই দানপারমী পূর্ণ করেছিলাম।
ภิกฺขาย อุปคตํ ทิสฺวา, สกตฺตานํ ปริจฺจชึ;
ทาเนน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม ทานปารมีติ.
আহারের জন্য যাচককে উপস্থিত দেখে আমি নিজের শরীর উৎসর্গ করেছিলাম; আমার এই দানের সমকক্ষ কোনো দান নেই, এটিই আমার দানপারমী।
ทานปารมินิทฺเทโส นิฏฺฐิโต.
দানপারমী নির্দেশ সমাপ্ত।
๒. หตฺถินาควคฺโค
২. হস্তীনাগ-বর্গ
๑. มาตุโปสกจริยา
১. মাতুপোষক চরিয় (মাতৃভক্ত হস্তীর আচরণ)
๑.
১.
‘‘ยทา [Pg.399] อโหสึ ปวเน, กุญฺชโร มาตุโปสโก;
น ตทา อตฺถิ มหิยา, คุเณน มม สาทิโส.
আমি যখন অরণ্যে অন্ধ মাতাকে প্রতিপালনকারী এক হস্তী ছিলাম, তখন এই পৃথিবীতে গুণ ও শীলে আমার সমকক্ষ কেউ ছিল না।
๒.
২.
‘‘ปวเน ทิสฺวา วนจโร, รญฺโญ มํ ปฏิเวทยิ;
‘ตวานุจฺฉโว มหาราช, คโช วสติ กานเน.
অরণ্যে আমাকে দেখে এক ব্যাধ রাজার নিকট গিয়ে নিবেদন করল, ‘মহারাজ! আপনার উপযুক্ত এক শ্বেতহস্তী এই বনে বাস করছে।’
๓.
৩.
‘‘‘น ตสฺส ปริกฺขายตฺโถ, นปิ อาฬกกาสุยา;
สห คหิเต โสณฺฑาย, สยเมว อิเธหิ’ติ.
‘তাকে ধরার জন্য কোনো খোঁয়াড় বা ফাঁদের প্রয়োজন নেই, কিংবা কোনো হস্তিনী বা গর্তের সাহায্যেও তাকে ধরতে হবে না; তার শুঁড়টি স্পর্শ করলেই সে নিজে থেকেই এখানে চলে আসবে।’
๔.
৪.
‘‘ตสฺส ตํ วจนํ สุตฺวา, ราชาปิ ตุฏฺฐมานโส;
เปเสสิ หตฺถิทมกํ, เฉกาจริยํ สุสิกฺขิตํ.
তার কথা শুনে রাজাও অত্যন্ত সন্তুষ্ট চিত্তে হস্তী দমনে পারদর্শী ও সুশিক্ষিত এক দক্ষ হস্তী-শিক্ষককে প্রেরণ করলেন।
๕.
৫.
‘‘คนฺตฺวา โส หตฺถิทมโก, อทฺทส ปทุมสฺสเร;
ภิสมุฬาลํ อุทฺธรนฺตํ, ยาปนตฺถาย มาตุยา.
সেই হস্তী-দমক অরণ্যে গিয়ে পদ্মপুকুরে আমাকে আমার মাতার ভরণপোষণের জন্য পদ্মমূল তুলতে দেখলেন।
๖.
৬.
‘‘วิญฺญาย เม สีลคุณํ, ลกฺขณํ อุปธารยิ;
‘เอหิ ปุตฺตา’ติ ปตฺวาน, มม โสณฺฑาย อคฺคหิ.
তিনি আমার শীলগুণ জেনে আমার শারীরিক লক্ষণসমূহ পরীক্ষা করলেন এবং 'এসো বাছা' বলে আমার শুঁড়টি ধরলেন।
๗.
৭.
‘‘ยํ เม ตทา ปากติกํ, สรีรานุคตํ พลํ;
อชฺช นาคสหสฺสานํ, พเลน สมสาทิสํ.
তখন আমার শরীরে স্বাভাবিকভাবে যে শারীরিক বল ছিল, তা আজ সহস্র হাতির বলের সমান ও সদৃশ।
๘.
৮.
‘‘ยทิหํ เตสํ ปกุปฺเปยฺยํ, อุเปตานํ คหณาย มํ;
ปฏิพโล ภเว เตสํ, ยาว รชฺชมฺปิ มานุสํ.
আমাকে ধরার জন্য আগত সেই মানুষদের প্রতি যদি আমি ক্রুদ্ধ হতাম, তবে তাদের সমগ্র মানব রাজ্যসহ ধূলিসাৎ করে দিতে আমি সক্ষম হতাম।
๙.
৯.
‘‘อปิ จาหํ สีลรกฺขาย, สีลปารมิปูริยา;
น กโรมิ จิตฺเต อญฺญถตฺตํ, ปกฺขิปนฺตํ มมาฬเก.
তথাপি শীল রক্ষা ও শীলপারমী পূর্ণ করার জন্য, তারা যখন আমাকে হাতি বাঁধার খুঁটিতে আবদ্ধ করছিল, তখনও আমি মনে কোনো বিকার বা ক্রোধের উদ্রেক হতে দিইনি।
๑๐.
১০.
‘‘ยทิ เต มํ ตตฺถ โกฏฺเฏยฺยุํ, ผรสูหิ โตมเรหิ จ;
เนว เตสํ ปกุปฺเปยฺยํ, สีลขณฺฑภยา มมา’’ติ.
সেখানে তারা যদি আমাকে কুঠার বা বল্লম দিয়ে আঘাতও করত, তবুও আমার শীল ভঙ্গ হওয়ার ভয়ে আমি তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র ক্রুদ্ধ হতাম না।
มาตุโปสกจริยํ ปฐมํ.
প্রথম: মাতুপোষক চরিয়া সমাপ্ত।
๒. ภูริทตฺตจริยา
২. ভুরিদত্ত চরিয়া
๑๑.
১১.
‘‘ปุนาปรํ [Pg.400] ยทา โหมิ, ภูริทตฺโต มหิทฺธิโก;
วิรูปกฺเขน มหารญฺญา, เทวโลกมคญฺฉหํ.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি মহাপ্রভাবশালী ভুরিদত্ত নামক নাগরাজ ছিলাম, তখন আমি নাগরাজ বিরূপাক্ষের সাথে দেবলোকে গিয়েছিলাম।
๑๒.
১২.
‘‘ตตฺถ ปสฺสิตฺวาหํ เทเว, เอกนฺตํ สุขสมปฺปิเต;
ตํ สคฺคคมนตฺถาย, สีลพฺพตํ สมาทิยึ.
সেখানে দেবতাদের পরম সুখে মগ্ন দেখে, সেই স্বর্গে জন্মগ্রহণের উদ্দেশ্যে আমি শীলব্রত গ্রহণ করেছিলাম।
๑๓.
১৩.
‘‘สรีรกิจฺจํ กตฺวาน, ภุตฺวา ยาปนมตฺตกํ;
จตุโร องฺเค อธิฏฺฐาย, เสมิ วมฺมิกมุทฺธนิ.
তখন আমি প্রাতঃকৃত্য সমাপন করে জীবনধারণের উপযোগী সামান্য আহার গ্রহণ করতাম এবং চতুরঙ্গ অধিষ্ঠান করে উইঢিবির চূড়ায় শয়ন করতাম।
๑๔.
১৪.
‘‘ฉวิยา จมฺเมน มํเสน, นหารุอฏฺฐิเกหิ วา;
ยสฺส เอเตน กรณียํ, ทินฺนํเยว หราตุ โส.
ত্বক, চর্ম, মাংস, শিরা অথবা অস্থি—যার যা প্রয়োজন, সে তা নিয়ে যাক, আমি তা দানই করেছি—এই চতুরঙ্গ অধিষ্ঠান করে আমি শয়ন করতাম।
๑๕.
১৫.
‘‘สํสิโต อกตญฺญุนา, อาลมฺปายโน มมคฺคหิ;
เปฬาย ปกฺขิปิตฺวาน, กีเฬติ มํ ตหึ ตหึ.
কৃতঘ্ন নিষাদ কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে আলম্পায়ন নামক সাপুড়ে আমাকে বন্দি করল এবং ঝুড়িতে পুরে এখানে-সেখানে খেলা দেখাতে লাগল।
๑๖.
১৬.
‘‘เปฬาย ปกฺขิปนฺเตปิ, สมฺมทฺทนฺเตปิ ปาณินา;
อาลมฺปายเน น กุปฺปามิ, สีลขณฺฑภยา มม.
ঝুড়িতে পুরে রাখার সময় অথবা হাত দিয়ে সজোরে আঘাত করার সময়ও, আমার শীল ভঙ্গ হওয়ার ভয়ে আমি সেই আলম্পায়নের প্রতি ক্রুদ্ধ হইনি।
๑๗.
১৭.
‘‘สกชีวิตปริจฺจาโค, ติณโต ลหุโก มม;
สีลวีติกฺกโม มยฺหํ, ปถวีอุปฺปตนํ วิย.
নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া আমার কাছে ঘাসের চেয়েও হালকা মনে হতো, কিন্তু শীল লঙ্ঘন করা আমার কাছে সমগ্র পৃথিবী উল্টে ফেলার মতো মনে হতো।
๑๘.
১৮.
‘‘นิรนฺตรํ ชาติสตํ, จเชยฺยํ มม ชีวิตํ;
เนว สีลํ ปภินฺเทยฺยํ, จตุทฺทีปาน เหตุปิ.
আমি শত জন্ম ধরে নিরন্তর নিজের জীবন বিসর্জন দিতে পারি, তবুও চতুর্মহাদ্বীপের আধিপত্যের বিনিময়েও আমি কখনো শীল ভঙ্গ করব না।
๑๙.
১৯.
‘‘อปิ จาหํ สีลรกฺขาย, สีลปารมิปูริยา;
น กโรมิ จิตฺเต อญฺญถตฺตํ, ปกฺขิปนฺตมฺปิ เปฬเก’’ติ.
তথাপি, শীল রক্ষা ও শীলপারমী পূর্ণ করার জন্য, আমাকে ঝুড়িতে পুরে রাখার সময়ও আমি মনে কোনো বিকার বা ক্রোধের উদ্রেক হতে দিইনি।
ภูริทตฺตจริยํ ทุติยํ.
দ্বিতীয়: ভুরিদত্ত চরিয়া সমাপ্ত।
๓. จมฺเปยฺยนาคจริยา
৩. চম্পেয় নাগ চরিয়া
๒๐.
২০.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, จมฺเปยฺยโก มหิทฺธิโก;
ตทาปิ ธมฺมิโก อาสึ, สีลพฺพตสมปฺปิโต.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি মহাপ্রভাবশালী চম্পেয় নাগরাজ ছিলাম, তখনও আমি ধার্মিক এবং শীলব্রতে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলাম।
๒๑.
২১.
‘‘ตทาปิ มํ ธมฺมจารึ, อุปวุตฺถํ อุโปสถํ;
อหิตุณฺฑิโก คเหตฺวาน, ราชทฺวารมฺหิ กีฬติ.
তখনও ধর্মচারী ও উপোসথ ব্রত পালনকারী আমাকে এক সাপুড়ে বন্দি করে রাজদ্বারে খেলা দেখাতে লাগল।
๒๒.
২২.
‘‘ยํ [Pg.401] ยํ โส วณฺณํ จินฺตยิ, นีลํว ปีตโลหิตํ;
ตสฺส จิตฺตานุวตฺตนฺโต, โหมิ จินฺติตสนฺนิโภ.
সে নীল, হলুদ বা লাল যে রঙের কথাই চিন্তা করত, আমি তার মনের ইচ্ছা অনুযায়ী সেই রূপ ধারণ করতাম।
๒๓.
২৩.
‘‘ถลํ กเรยฺยมุทกํ, อุทกมฺปิ ถลํ กเร;
ยทิหํ ตสฺส ปกุปฺเปยฺยํ, ขเณน ฉาริกํ กเร.
আমি স্থলকে জল এবং জলকে স্থলে পরিণত করতে পারতাম; আমি যদি তার প্রতি ক্রুদ্ধ হতাম, তবে মুহূর্তের মধ্যে তাকে ভস্মীভূত করে দিতে পারতাম।
๒๔.
২৪.
‘‘ยทิ จิตฺตวสี เหสฺสํ, ปริหายิสฺสามิ สีลโต;
สีเลน ปริหีนสฺส, อุตฺตมตฺโถ น สิชฺฌติ.
আমি যদি মনের ক্রোধের বশীভূত হতাম, তবে আমার শীলহানি হতো; আর শীলভ্রষ্ট ব্যক্তির পরমার্থ সিদ্ধ হয় না।
๒๕.
২৫.
‘‘กามํ ภิชฺชตุยํ กาโย, อิเธว วิกิรียตุ;
เนว สีลํ ปภินฺเทยฺยํ, วิกิรนฺเต ภุสํ วิยา’’ติ.
এই শরীর ধ্বংস হয়ে যাক, এখানেই ছিন্নভিন্ন হয়ে ধুলোয় মিশে যাক, তুষের মতো বাতাসে উড়ে গেলেও আমি কখনো শীল ভঙ্গ করব না।
จมฺเปยฺยนาคจริยํ ตติยํ.
তৃতীয়: চম্পেয় নাগ চরিয়া সমাপ্ত।
๔. จูฬโพธิจริยา
৪. চূড়বোধি চরিয়া
๒๖.
২৬.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, จูฬโพธิ สุสีลวา;
ภวํ ทิสฺวาน ภยโต, เนกฺขมฺมํ อภินิกฺขมึ.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি সুশীল চূড়বোধি নামক ব্রাহ্মণ ছিলাম, তখন সংসারকে ভয়ংকর দেখে নৈষ্ক্রম্য ধর্ম পালনের জন্য গৃহত্যাগ করেছিলাম।
๒๗.
২৭.
‘‘ยา เม ทุติยิกา อาสิ, พฺราหฺมณี กนกสนฺนิภา;
สาปิ วฏฺเฏ อนเปกฺขา, เนกฺขมฺมํ อภินิกฺขมิ.
আমার যে সহধর্মিণী ব্রাহ্মণী ছিলেন, যাঁর গায়ের রঙ ছিল তপ্ত কাঞ্চনের মতো, তিনিও সংসারের প্রতি অনাসক্ত হয়ে নৈষ্ক্রম্য ধর্ম পালনের জন্য প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছিলেন।
๒๘.
২৮.
‘‘นิราลยา ฉินฺนพนฺธู, อนเปกฺขา กุเล คเณ;
จรนฺตา คามนิคมํ, พาราณสิมุปาคมุํ.
আমরা সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে, আত্মীয়স্বজন ও কুলের প্রতি অনাসক্ত ও নিস্পৃহ হয়ে গ্রাম ও নগরে বিচরণ করতে করতে বারাণসী নগরে এসে পৌঁছালাম।
๒๙.
২৯.
‘‘ตตฺถ วสาม นิปกา, อสํสฏฺฐา กุเล คเณ;
นิรากุเล อปฺปสทฺเท, ราชุยฺยาเน วสามุโภ.
সেখানে আমরা প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে লোকসংসর্গ এড়িয়ে চলতাম এবং কোলাহলমুক্ত, শান্ত রাজ-উদ্যানে আমরা দুজনে বসবাস করতে লাগলাম।
๓๐.
৩০.
‘‘อุยฺยานทสฺสนํ คนฺตฺวา, ราชา อทฺทส พฺราหฺมณึ;
อุปคมฺม มมํ ปุจฺฉิ, ‘ตุยฺเหสา กา กสฺส ภริยา’.
একদিন রাজা উদ্যান পরিদর্শনে এসে সেই ব্রাহ্মণীকে দেখলেন। তিনি আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইনি আপনার কে হন? কার স্ত্রী ইনি?'
๓๑.
৩১.
‘‘เอวํ วุตฺเต อหํ ตสฺส, อิทํ วจนมพฺรวึ;
‘น มยฺหํ ภริยา เอสา, สหธมฺมา เอกสาสนี’.
রাজা এ কথা জিজ্ঞাসা করলে আমি তাঁকে বললাম, 'ইনি আমার স্ত্রী নন; ইনি আমার সহধর্মিণী এবং একই প্রব্রজ্যা শাসনের সহযাত্রী।'
๓๒.
৩২.
‘‘ติสฺสา สารตฺตคธิโต, คาหาเปตฺวาน เจฏเก;
นิปฺปีฬยนฺโต พลสา, อนฺเตปุรํ ปเวสยิ.
রাজা তাঁর প্রতি তীব্র আসক্ত ও কামমোহিত হয়ে তাঁর অনুচরদের দিয়ে জোরপূর্বক তাঁকে বন্দি করালেন এবং অন্তঃপুরে নিয়ে গেলেন।
๓๓.
৩৩.
‘‘โอทปตฺตกิยา [Pg.402] มยฺหํ, สหชา เอกสาสนี;
อากฑฺฒิตฺวา นยนฺติยา, โกโป เม อุปปชฺชถ.
আমার সেই সহধর্মিণী ও একই প্রব্রজ্যা শাসনের সহযাত্রী ব্রাহ্মণীকে যখন জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন আমার মনে তীব্র ক্রোধের উদয় হয়েছিল।
๓๔.
৩৪.
‘‘สห โกเป สมุปฺปนฺเน, สีลพฺพตมนุสฺสรึ;
ตตฺเถว โกปํ นิคฺคณฺหึ, นาทาสึ วฑฺฒิตูปริ.
ক্রোধ উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথেই আমি আমার শীলব্রতের কথা স্মরণ করলাম এবং তৎক্ষণাৎ সেই ক্রোধকে দমন করলাম, তাকে আর बढ़ने দিইনি।
๓๕.
৩৫.
‘‘ยทิ นํ พฺราหฺมณึ โกจิ, โกฏฺเฏยฺย ติณฺหสตฺติยา;
เนว สีลํ ปภินฺเทยฺยํ, โพธิยาเยว การณา.
কেউ যদি সেই ব্রাহ্মণীকে ধারালো বল্লম দিয়ে আঘাতও করত, তবুও কেবল বুদ্ধত্ব লাভের উদ্দেশ্যেই আমি আমার শীল ভঙ্গ করতাম না।
๓๖.
৩৬.
‘‘น เมสา พฺราหฺมณี เทสฺสา, นปิ เม พลํ น วิชฺชติ;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา สีลานุรกฺขิส’’นฺติ.
এমন নয় যে আমি সেই ব্রাহ্মণীকে ভালোবাসতাম না, অথবা আমার কোনো শক্তি ছিল না; কিন্তু সর্বজ্ঞতা জ্ঞানই আমার কাছে পরম প্রিয়, তাই আমি শীল রক্ষা করেছিলাম।
จูฬโพธิจริยํ จตุตฺถํ.
চতুর্থ: চূড়বোধি চরিয়া সমাপ্ত।
๕. มหึสราชจริยา
৫. মহিষরাজ চরিয়া
๓๗.
৩৭.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, มหึโส ปวนจารโก;
ปวฑฺฒกาโย พลวา, มหนฺโต ภีมทสฺสโน.
আবার অন্য সময়ে, when আমি অরণ্যচারী এক বন্য মহিষ ছিলাম, যার শরীর ছিল বিশাল, বলবান এবং দেখতে অত্যন্ত ভয়ংকর।
๓๘.
৩৮.
‘‘ปพฺภาเร คิริทุคฺเค จ, รุกฺขมูเล ทกาสเย;
โหเตตฺถ ฐานํ มหึสานํ, โกจิ โกจิ ตหึ ตหึ.
সেই গভীর অরণ্যের গুহায়, দুর্গম গিরিপথে, বৃক্ষমূলে অথবা জলাশয়ের নিকটে বন্য মহিষদের বিভিন্ন বাসস্থান ছিল।
๓๙.
৩৯.
‘‘วิจรนฺโต พฺรหารญฺเญ, ฐานํ อทฺทส ภทฺทกํ;
ตํ ฐานํ อุปคนฺตฺวาน, ติฏฺฐามิ จ สยามิ จ.
সেই মহাবনে বিচরণ করতে করতে আমি একটি মনোরম স্থান দেখতে পেলাম। আমি সেই স্থানে গিয়ে দাঁড়াতাম এবং শয়ন করতাম।
๔๐.
৪০.
‘‘อเถตฺถ กปิมาคนฺตฺวา, ปาโป อนริโย ลหุ;
ขนฺเธ นลาเฏ ภมุเก, มุตฺเตติ โอหเนติตํ.
তখন সেখানে এক দুষ্ট, অধম ও চপল বানর এসে আমার কাঁধে, কপালে ও ভ্রূতে মূত্র ও মলত্যাগ করত।
๔๑.
৪১.
‘‘สกิมฺปิ ทิวสํ ทุติยํ, ตติยํ จตุตฺถมฺปิ จ;
ทูเสติ มํ สพฺพกาลํ, เตน โหมิ อุปทฺทุโต.
একদিন, দুদিন, তিনদিন, চারদিন—এভাবে সে প্রতিনিয়ত আমাকে উত্যক্ত করত এবং আমি তার দ্বারা সর্বদা উৎপীড়িত হতাম।
๔๒.
৪২.
‘‘มมํ อุปทฺทุตํ ทิสฺวา, ยกฺโข มํ อิทมพฺรวิ;
‘นาเสเหตํ ฉวํ ปาปํ, สิงฺเคหิ จ ขุเรหิ จ’.
আমাকে এভাবে উৎপীড়িত হতে দেখে এক বৃক্ষদেবতা আমাকে বললেন, 'হে মহিষরাজ! এই দুষ্ট ও অধম বানরটিকে আপনার শিং ও খুর দিয়ে পিষে ধ্বংস করে দিন।'
๔๓.
৪৩.
‘‘เอวํ วุตฺเต ตทา ยกฺเข, อหํ ตํ อิทมพฺรวึ;
‘กึ ตฺวํ มกฺเขสิ กุณเปน, ปาเปน อนริเยน มํ.
বৃক্ষদেবতা এ কথা বললে আমি তাঁকে বললাম, 'আপনি কেন আমাকে এই পচা লাশের মতো অধম ও পাপী বানরের সংসর্গে কলঙ্কিত করতে চান?'
๔๔.
৪৪.
‘‘‘ยทิหํ [Pg.403] ตสฺส ปกุปฺเปยฺยํ, ตโต หีนตโร ภเว;
สีลญฺจ เม ปภิชฺเชยฺย, วิญฺญู จ ครเหยฺยุ มํ.
আমি যদি তার প্রতি ক্রুদ্ধ হই, তবে আমি তার চেয়েও অধম হয়ে যাব; আমার শীলও নষ্ট হবে এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা আমাকে নিন্দা করবেন।
๔๕.
৪৫.
‘‘‘หีฬิตา ชีวิตา วาปิ, ปริสุทฺเธน มตํ วรํ;
กฺยาหํ ชีวิตเหตูปิ, กาหามึ ปรเหฐนํ’.
নিন্দিত জীবন ধারণ করার চেয়ে বিশুদ্ধ শীলের সাথে মৃত্যুবরণ করা অনেক শ্রেয়। কেবল জীবন বাঁচানোর জন্য আমি কেন অন্যকে পীড়ন করব?
๔๖.
৪৬.
‘‘มเมวายํ มญฺญมาโน, อญฺเญเปวํ กริสฺสติ;
เตว ตสฺส วธิสฺสนฺติ, สา เม มุตฺติ ภวิสฺสติ.
সে আমাকে যেমন সহনশীল মনে করেছে, অন্যদের সাথেও তেমনই আচরণ করবে; তখন তারা তাকে হত্যা করবে এবং এভাবেই আমি তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাব।
๔๗.
৪৭.
‘‘หีนมชฺฌิมอุกฺกฏฺเฐ, สหนฺโต อวมานิตํ;
เอวํ ลภติ สปฺปญฺโญ, มนสา ยถา ปตฺถิต’’นฺติ.
অধম, মধ্যম বা উত্তম ব্যক্তির অবমাননা সহ্য করে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি মনে মনে যা প্রার্থনা করেন, তিনি তা লাভ করতে পারেন।
มหึสราชจริยํ ปญฺจมํ.
পঞ্চম: মহিষরাজ চরিয়া সমাপ্ত।
๖. รุรุราชจริยา
৬. রুরুরাজ চরিয়া
๔๘.
৪৮.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, สุตตฺตกนกสนฺนิโภ;
มิคราชา รุรุนาม, ปรมสีลสมาหิโต.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি তপ্ত কাঞ্চনের মতো উজ্জ্বল গাত্রবর্ণের অধিকারী, পরম শীলে সুপ্রতিষ্ঠিত 'রুরু' নামক মৃগরাজ ছিলাম।
๔๙.
৪৯.
‘‘รมฺเม ปเทเส รมณีเย, วิวิตฺเต อมนุสฺสเก;
ตตฺถ วาสํ อุปคญฺฉึ, คงฺคากูเล มโนรเม.
আমি গঙ্গার তীরে এক মনোরম, নির্জন ও মানববসতিহীন শান্ত স্থানে বসবাস করতাম।
๕๐.
৫০.
‘‘อถ อุปริ คงฺคาย, ธนิเกหิ ปริปีฬิโต;
ปุริโส คงฺคาย ปปติ, ‘ชีวามิ วา มรามิ วา’.
তখন গঙ্গার উজানে এক ব্যক্তি পাওনাদারদের দ্বারা অতিশয় উৎপীড়িত হয়ে, 'বাঁচি আর মরি' এই ভেবে গঙ্গার তীব্র স্রোতে ঝাঁপ দিল।
๕๑.
৫১.
‘‘รตฺตินฺทิวํ โส คงฺคาย, วุยฺหมาโน มโหทเก;
รวนฺโต กรุณํ รวํ, มชฺเฌ คงฺคาย คจฺฉติ.
সে গঙ্গার অতল জলরাশিতে দিনরাত ভেসে যেতে যেতে করুণ স্বরে আর্তনাদ করতে করতে নদীর মাঝখান দিয়ে ভেসে যাচ্ছিল।
๕๒.
৫২.
‘‘ตสฺสาหํ สทฺทํ สุตฺวาน, กรุณํ ปริเทวโต;
คงฺคาย ตีเร ฐตฺวาน, อปุจฺฉึ ‘โกสิ ตฺวํ นโร’.
তার সেই করুণ ক্রন্দনধ্বনি শুনে আমি গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'হে মানব! তুমি কে?'
๕๓.
৫৩.
‘‘โส เม ปุฏฺโฐ จ พฺยากาสิ, อตฺตโน กรณํ ตทา;
‘ธนิเกหิ ภีโต ตสิโต, ปกฺขนฺโทหํ มหานทึ’.
আমার জিজ্ঞাসার উত্তরে সে তার দুঃখের কাহিনী ব্যক্ত করল, 'প্রভু, আমি পাওনাদারদের ভয়ে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে এই মহানদীতে ঝাঁপ দিয়েছি।'
๕๔.
৫৪.
‘‘ตสฺส กตฺวาน การุญฺญํ, จชิตฺวา มม ชีวิตํ;
ปวิสิตฺวา นีหรึ ตสฺส, อนฺธการมฺหิ รตฺติยา.
তার প্রতি করুণাবশত নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, আমি সেই অন্ধকার রাতে নদীতে নেমে তাকে জল থেকে উদ্ধার করলাম।
๕๕.
৫৫.
‘‘อสฺสตฺถกาลมญฺญาย, ตสฺสาหํ อิทมพฺรวึ;
‘เอกํ ตํ วรํ ยาจามิ, มา มํ กสฺสจิ ปาวท’.
আমি সেই ব্যক্তির আশ্বস্ত হওয়ার সময়টি জেনে তাকে এই কথা বলেছিলাম: 'আমি তোমার কাছে একটি বর প্রার্থনা করছি, তুমি কারো কাছে আমার কথা প্রকাশ করো না।'
๕๖.
৫৬.
‘‘นครํ [Pg.404] คนฺตฺวาน อาจิกฺขิ, ปุจฺฉิโต ธนเหตุโก;
ราชานํ โส คเหตฺวาน, อุปคญฺฉิ มมนฺติกํ.
সেই ব্যক্তি নগরে গিয়ে, রাজা কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হয়ে, ধনের লোভে আমার কথা প্রকাশ করে দিল। সে রাজাকে সাথে নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হলো।
๕๗.
৫৭.
‘‘ยาวตา กรณํ สพฺพํ, รญฺโญ อาโรจิตํ มยา;
ราชา สุตฺวาน วจนํ, อุสุํ ตสฺส ปกปฺปยิ;
‘อิเธว ฆาตยิสฺสามิ, มิตฺตทุพฺภึ อนาริยํ’.
আমি রাজার কাছে সমস্ত ঘটনা নিবেদন করলাম। রাজা সেই কথা শুনে, তাকে বধ করার জন্য ধনুকে তীর যোজন করলেন এবং বললেন, 'আমি এইখানেই এই অকৃতজ্ঞ মিত্রদ্রোহী অধমকে হত্যা করব।'
๕๘.
৫৮.
‘‘ตมหํ อนุรกฺขนฺโต, นิมฺมินึ มม อตฺตนา;
‘ติฏฺฐเตโส มหาราช, กามกาโร ภวามิ เต’.
আমি তাকে রক্ষা করার ইচ্ছায় নিজের জীবন দিয়ে তাকে বিনিময় করলাম এবং বললাম, 'মহারাজ, এই ব্যক্তি বেঁচে থাকুক, আমি আপনার ইচ্ছানুযায়ী সেবার জন্য প্রস্তুত আছি।'
๕๙.
৫৯.
‘‘อนุรกฺขึ มม สีลํ, นารกฺขึ มม ชีวิตํ;
สีลวา หิ ตทา อาสึ, โพธิยาเยว การณา’’ติ.
আমি আমার শীল রক্ষা করেছিলাম, নিজের জীবন রক্ষা করিনি। তখন আমি কেবল বোধিজ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যেই শীলবান হয়েছিলাম।
รุรุราชจริยํ ฉฏฺฐํ.
ষষ্ঠ রুরুরাজ চরিয়া সমাপ্ত।
๗. มาตงฺคจริยา
৭. মাতঙ্গ চরিয়া
๖๐.
৬০.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, ชฏิโล อุคฺคตาปโน;
มาตงฺโค นาม นาเมน, สีลวา สุสมาหิโต.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি তীব্র তপস্বী, শীলবান ও সুসমাহিত জটাধারী তাপস ছিলাম, যার নাম ছিল মাতঙ্গ।
๖๑.
৬১.
‘‘อหญฺจ พฺราหฺมโณ เอโก, คงฺคากูเล วสามุโภ;
อหํ วสามิ อุปริ, เหฏฺฐา วสติ พฺราหฺมโณ.
আমি এবং এক ব্রাহ্মণ—আমরা দুজনেই গঙ্গার তীরে বাস করতাম। আমি গঙ্গার উজানে বাস করতাম এবং সেই ব্রাহ্মণ ভাটিতে বাস করত।
๖๒.
৬২.
‘‘วิจรนฺโต อนุกูลมฺหิ, อุทฺธํ เม อสฺสมทฺทส;
ตตฺถ มํ ปริภาเสตฺวา, อภิสปิ มุทฺธผาลนํ.
নদীর তীরে বিচরণ করার সময় সে উজানে আমার আশ্রম দেখতে পেল। সেখানে সে আমাকে তিরস্কার করল এবং মাথা ফেটে যাওয়ার অভিশাপ দিল।
๖๓.
৬৩.
‘‘ยทิหํ ตสฺส ปกุปฺเปยฺยํ, ยทิ สีลํ น โคปเย;
โอโลเกตฺวานหํ ตสฺส, กเรยฺยํ ฉาริกํ วิย.
আমি যদি তার ওপর ক্রুদ্ধ হতাম এবং যদি নিজের শীল রক্ষা না করতাম, তবে কেবল দৃষ্টিপাত করেই তাকে ভস্মের মতো করে দিতে পারতাম।
๖๔.
৬৪.
‘‘ยํ โส ตทา มํ อภิสปิ, กุปิโต ทุฏฺฐมานโส;
ตสฺเสว มตฺถเก นิปติ, โยเคน ตํ ปโมจยึ.
ক্রুদ্ধ ও দুষ্টচিত্ত হয়ে সে তখন আমাকে যে অভিশাপ দিয়েছিল, তা তার নিজের মাথাতেই পতিত হতো; কিন্তু আমি নিজের সাধনার দ্বারা তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত করেছিলাম।
๖๕.
৬৫.
‘‘อนุรกฺขึ มม สีลํ, นารกฺขึ มม ชีวิตํ;
สีลวา หิ ตทา อาสึ, โพธิยาเยว การณา’’ติ.
আমি আমার শীল রক্ষা করেছিলাম, নিজের জীবন রক্ষা করিনি। তখন আমি কেবল বোধিজ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যেই শীলবান হয়েছিলাম।
มาตงฺคจริยํ สตฺตมํ.
সপ্তম মাতঙ্গ চরিয়া সমাপ্ত।
๘. ธมฺมเทวปุตฺตจริยา
৮. ধর্মদেবপুত্র চরিয়া
๖๖.
৬৬.
‘‘ปุนาปรํ [Pg.405] ยทา โหมิ, มหาปกฺโข มหิทฺธิโก;
ธมฺโม นาม มหายกฺโข, สพฺพโลกานุกมฺปโก.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি বিশাল অনুসারী ও মহাপ্রভাবশালী, সমগ্র জগতের প্রতি অনুকম্পাশীল 'ধর্ম' নামক মহান যক্ষ ছিলাম।
๖๗.
৬৭.
‘‘ทสกุสลกมฺมปเถ, สมาทเปนฺโต มหาชนํ;
จรามิ คามนิคมํ, สมิตฺโต สปริชฺชโน.
আমি জনগণকে দশ কুশল কর্মপথে দীক্ষিত করতে করতে মিত্র ও অনুসারীসহ গ্রাম ও নগরে বিচরণ করতাম।
๖๘.
৬৮.
‘‘ปาโป กทริโย ยกฺโข, ทีเปนฺโต ทส ปาปเก;
โสเปตฺถ มหิยา จรติ, สมิตฺโต สปริชฺชโน.
তখন এক পাপী ও কৃপণ যক্ষ দশ অকুশল কর্মের প্রচার করতে করতে তার মিত্র ও অনুসারীসহ এই পৃথিবীতে বিচরণ করত।
๖๙.
৬৯.
‘‘ธมฺมวาที อธมฺโม จ, อุโภ ปจฺจนิกา มยํ;
ธุเร ธุรํ ฆฏฺฏยนฺตา, สมิมฺหา ปฏิปเถ อุโภ.
ধর্মবাদী এবং অধর্ম—আমরা দুজনেই পরস্পর বিরোধী ছিলাম। মুখোমুখি পথে আমাদের রথের জোয়াল পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেল।
๗๐.
৭০.
‘‘กลโห วตฺตตี เภสฺมา, กลฺยาณปาปกสฺส จ;
มคฺคา โอกฺกมนตฺถาย, มหายุทฺโธ อุปฏฺฐิโต.
তখন কল্যাণকারী এবং পাপীর মধ্যে পথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক ভয়ানক বিবাদ শুরু হলো এবং এক মহাসংগ্রামের পরিস্থিতি তৈরি হলো।
๗๑.
৭১.
‘‘ยทิหํ ตสฺส กุปฺเปยฺยํ, ยทิ ภินฺเท ตโปคุณํ;
สหปริชนํ ตสฺส, รชภูตํ กเรยฺยหํ.
আমি যদি তার ওপর ক্রুদ্ধ হতাম, অথবা যদি আমার তপো গুণ নষ্ট করতাম, তবে অনুসারীসহ তাকে ধূলিকণায় পরিণত করতে পারতাম।
๗๒.
৭২.
‘‘อปิจาหํ สีลรกฺขาย, นิพฺพาเปตฺวาน มานสํ;
สห ชเนโนกฺกมิตฺวา, ปถํ ปาปสฺส ทาสหํ.
তবুও আমি শীল রক্ষার জন্য নিজের মনকে শান্ত করে, অনুসারীসহ পথ থেকে সরে গিয়ে সেই পাপীকে পথ ছেড়ে দিলাম।
๗๓.
৭৩.
‘‘สห ปถโต โอกฺกนฺเต, กตฺวา จิตฺตสฺส นิพฺพุตึ;
วิวรํ อทาสิ ปถวี, ปาปยกฺขสฺส ตาวเท’’ติ.
মনকে শান্ত করে আমার পথ থেকে সরে যাওয়ার সাথে সাথেই, পৃথিবী সেই পাপী যক্ষকে গ্রাস করার জন্য ফাটল সৃষ্টি করল।
ธมฺมเทวปุตฺตจริยํ อฏฺฐมํ.
অষ্টম ধর্মদেবপুত্র চরিয়া সমাপ্ত।
๙. อลีนสตฺตุจริยา
৯. অলীনসত্তু চরিয়া
๗๔.
৭৪.
‘‘ปญฺจาลรฏฺเฐ นครวเร, กปิลายํ ปุรุตฺตเม;
ราชา ชยทฺทิโส นาม, สีลคุณมุปาคโต.
পাঞ্চাল রাজ্যের শ্রেষ্ঠ নগর কপিলাতে শীলগুণে সম্পন্ন 'জয়দ্দিস' নামে এক রাজা ছিলেন।
๗๕.
৭৫.
‘‘ตสฺส รญฺโญ อหํ ปุตฺโต, สุตธมฺโม สุสีลวา;
อลีนสตฺโต คุณวา, อนุรกฺขปริชโน สทา.
আমি সেই রাজার পুত্র ছিলাম, বহুশ্রুত, সুশীল ও গুণবান; আমার নাম ছিল অলীনসত্তু এবং আমি সর্বদা অনুসারীদের রক্ষা করতাম।
๗๖.
৭৬.
‘‘ปิตา เม มิควํ คนฺตฺวา, โปริสาทํ อุปาคมิ;
โส เม ปิตุมคฺคเหสิ, ‘ภกฺโขสิ มม มา จลิ’.
আমার পিতা মৃগয়ায় গিয়ে নরখাদক পোরিসাদের মুখোমুখি হলেন। সে আমার পিতাকে ধরে বলল, 'তুমি আমার খাদ্য, নড়াচড়া করো না।'
๗๗.
৭৭.
‘‘ตสฺส [Pg.406] ตํ วจนํ สุตฺวา, ภีโต ตสิตเวธิโต;
อูรุกฺขมฺโภ อหุ ตสฺส, ทิสฺวาน โปริสาทกํ.
তার সেই কথা শুনে পিতা অত্যন্ত ভীত ও কম্পিত হলেন। নরখাদককে দেখে ভয়ে তাঁর উরুদ্বয় অবশ হয়ে গেল।
๗๘.
৭৮.
‘‘มิควํ คเหตฺวา มุญฺจสฺสุ, กตฺวา อาคมนํ ปุน;
พฺราหฺมณสฺส ธนํ ทตฺวา, ปิตา อามนฺตยี มมํ.
'শিকার করা হরিণ নিয়ে আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আবার ফিরে আসব'—এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং এক ব্রাহ্মণকে ধন দান করে পিতা ফিরে এসে আমাকে ডাকলেন।
๗๙.
৭৯.
‘‘‘รชฺชํ ปุตฺต ปฏิปชฺช, มา ปมชฺชิ ปุรํ อิทํ;
กตํ เม โปริสาเทน, มม อาคมนํ ปุน’.
'হে পুত্র, তুমি রাজ্যভার গ্রহণ করো, এই নগরের প্রতি অপ্রমত্ত থেকো। আমি পোরিসাদের কাছে পুনরায় ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি।'
๘๐.
৮০.
‘‘มาตาปิตู จ วนฺทิตฺวา, นิมฺมินิตฺวาน อตฺตนา;
นิกฺขิปิตฺวา ธนุํ ขคฺคํ, โปริสาทํ อุปาคมึ.
আমি পিতা-মাতাকে বন্দনা করে, পিতার পরিবর্তে নিজেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ধনুক ও তলোয়ার নামিয়ে রেখে আমি পোরিসাদের কাছে গেলাম।
๘๑.
৮১.
‘‘สสตฺถหตฺถูปคตํ, กทาจิ โส ตสิสฺสติ;
เตน ภิชฺชิสฺสติ สีลํ, ปริตฺตาสํ กเต มยิ.
আমি যদি অস্ত্র হাতে তার কাছে যেতাম, তবে সে হয়তো ভয় পেত। আমার কারণে অন্য কেউ ভীত হলে আমার শীল ভঙ্গ হতো।
๘๒.
৮২.
‘‘สีลขณฺฑภยา มยฺหํ, ตสฺส เทสฺสํ น พฺยาหรึ;
เมตฺตจิตฺโต หิตวาที, อิทํ วจนมพฺรวึ.
শীল ভঙ্গের ভয়ে আমি তাকে কোনো অপ্রিয় কথা বলিনি। মৈত্রীপূর্ণ চিত্তে ও হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে আমি তাকে এই কথা বললাম:
๘๓.
৮৩.
‘‘‘อุชฺชาเลหิ มหาอคฺคึ, ปปติสฺสามิ รุกฺขโต;
ตฺวํ ปกฺกกาลมญฺญาย, ภกฺขย มํ ปิตามห’.
'হে জ্যেষ্ঠতাত, আপনি এক বিশাল আগুন জ্বালান, আমি গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ব। আপনি মাংস সুসিদ্ধ হওয়ার সময়টি জেনে আমাকে ভক্ষণ করুন।'
๘๔.
৮৪.
‘‘อิติ สีลวตํ เหตุ, นารกฺขึ มม ชีวิตํ;
ปพฺพาเชสึ จหํ ตสฺส, สทา ปาณาติปาติก’’นฺติ.
এইভাবে শীলবানদের জন্য আমি নিজের জীবন রক্ষা করিনি। আমি সেই পোরিসাদকে চিরতরে প্রাণিহত্যা ত্যাগ করিয়ে প্রব্রজ্যা দিয়েছিলাম।
อลีนสตฺตุจริยํ นวมํ.
নবম অলীনসত্তু চরিয়া সমাপ্ত।
๑๐. สงฺขปาลจริยา
১০. শঙ্খপাল চরিয়া
๘๕.
৮৫.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, สงฺขปาโล มหิทฺธิโก;
ทาฐาวุโธ โฆรวิโส, ทฺวิชิวฺโห อุรคาธิภู.
আবার অন্য সময়ে, যখন আমি মহাপ্রভাবশালী, বিষাক্ত দন্তরূপ অস্ত্রধারী, তীব্র বিষধর, দ্বি-জিহ্বা বিশিষ্ট এবং নাগরাজ শঙ্খপাল ছিলাম।
๘๖.
৮৬.
‘‘จตุปฺปเถ มหามคฺเค, นานาชนสมากุเล;
จตุโร องฺเค อธิฏฺฐาย, ตตฺถ วาสมกปฺปยึ.
নানা লোকে পরিপূর্ণ এক চতুষ্পথ মহাসড়কে আমি চতুরঙ্গ উপোসথ অধিষ্ঠান করে সেখানে অবস্থান করতাম।
๘๗.
৮৭.
‘‘ฉวิยา จมฺเมน มํเสน, นหารุอฏฺฐิเกหิ วา;
ยสฺส เอเตน กรณียํ, ทินฺนํเยว หราตุ โส.
'যার আমার বহির্ত্বক, অন্তস্ত্বক, মাংস, শিরা কিংবা হাড়ের প্রয়োজন, সে তা নিয়ে যাক; আমি তা দানই করলাম।'
๘๘.
৮৮.
‘‘อทฺทสํสุ [Pg.407] โภชปุตฺตา, ขรา ลุทฺทา อการุณา;
อุปคญฺฉุํ มมํ ตตฺถ, ทณฺฑมุคฺครปาณิโน.
তখন নিষ্ঠুর, লুব্ধক ও করুণাহীন কিছু ব্যাধপুত্র আমাকে দেখতে পেল। তারা হাতে লাঠি ও মুষল নিয়ে আমার কাছে এগিয়ে এল।
๘๙.
৮৯.
‘‘นาสาย วินิวิชฺฌิตฺวา, นงฺคุฏฺเฐ ปิฏฺฐิกณฺฏเก;
กาเช อาโรปยิตฺวาน, โภชปุตฺตา หรึสุ มํ.
সেই ব্যাধপুত্ররা আমার নাক, লেজ এবং মেরুদণ্ড ফুঁড়ে দিয়ে, বাঁশের বাঁকে ঝুলিয়ে আমাকে বহন করে নিয়ে চলল।
๙๐.
৯০.
‘‘สสาครนฺตํ ปถวึ, สกานนํ สปพฺพตํ;
อิจฺฉมาโน จหํ ตตฺถ, นาสาวาเตน ฌาปเย.
আমি যদি ইচ্ছা করতাম, তবে সমুদ্র, অরণ্য ও পর্বতসহ সমগ্র পৃথিবীকে আমার নাসিকার নিঃশ্বাস-বায়ু দ্বারা ভস্মীভূত করে দিতে পারতাম।
๙๑.
৯১.
‘‘สูเลหิ วินิวิชฺฌนฺเต, โกฏฺฏยนฺเตปิ สตฺติภิ;
โภชปุตฺเต น กุปฺปามิ, เอสา เม สีลปารมี’’ติ.
তারা শূল দিয়ে বিদ্ধ করা এবং বর্শা দিয়ে আঘাত করা সত্ত্বেও আমি সেই ব্যাধপুত্রদের ওপর ক্রুদ্ধ হইনি; এটিই ছিল আমার শীলপারমী।
สงฺขปาลจริยํ ทสมํ.
দশম শঙ্খপাল চরিয়া সমাপ্ত।
หตฺถินาควคฺโค ทุติโย.
দ্বিতীয় হস্তীনাগ বর্গ সমাপ্ত।
ตสฺสุทฺทานํ –
এর সূচী (সংক্ষেপ):
หตฺถินาโค ภูริทตฺโต, จมฺเปยฺโย โพธิ มหึโส;
รุรุ มาตงฺโค ธมฺโม จ, อตฺรโช จ ชยทฺทิโส.
হস্তীনাগ, ভূরিদত্ত, চম্পেয়, বোধি, মহিষ, রুরু, মাতঙ্গ, ধর্ম এবং জয়দ্দিসের পুত্র।
เอเต นว สีลพลา, ปริกฺขารา ปเทสิกา;
ชีวิตํ ปริรกฺขิตฺวา, สีลานิ อนุรกฺขิสํ.
এই নয়টি চর্যা শীলবলের অন্তর্গত, যা ছিল আংশিক পারমী; যেখানে জীবন রক্ষা করে শীলসমূহ পালন করা হয়েছিল।
สงฺขปาลสฺส เม สโต, สพฺพกาลมฺปิ ชีวิตํ;
ยสฺส กสฺสจิ นิยฺยตฺตํ, ตสฺมา สา สีลปารมีติ.
কিন্তু শঙ্খপাল রূপে আমি সর্বদা যে কারো জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম; তাই তা ছিল পূর্ণাঙ্গ শীলপারমী।
สีลปารมินิทฺเทโส นิฏฺฐิโต.
শীলপারমী নির্দেশ সমাপ্ত।
๓. ยุธญฺชยวคฺโค
৩. যুধঞ্জয় বর্গ
๑. ยุธญฺชยจริยา
১. যুধঞ্জয় চরিয়া
๑.
১.
‘‘ยทาหํ [Pg.408] อมิตยโส, ราชปุตฺโต ยุธญฺชโย;
อุสฺสาวพินฺทุํ สูริยาตเป, ปติตํ ทิสฺวาน สํวิชึ.
যখন আমি অমিতযশস্বী রাজপুত্র যুধঞ্জয় ছিলাম, তখন সূর্যের তাপে শিশিরবিন্দু শুকিয়ে যেতে দেখে আমার মনে সংবেগ উৎপন্ন হয়েছিল।
๒.
২.
‘‘ตญฺเญวาธิปตึ กตฺวา, สํเวคมนุพฺรูหยึ;
มาตาปิตู จ วนฺทิตฺวา, ปพฺพชฺชมนุยาจหํ.
সেই শিশিরবিন্দুর অনিত্যতাকে প্রধান বিষয় করে আমি সংবেগকে বারবার বৃদ্ধি করলাম এবং পিতা-মাতাকে বন্দনা করে প্রব্রজ্যার জন্য প্রার্থনা করলাম।
๓.
৩.
‘‘ยาจนฺติ มํ ปญฺชลิกา, สเนคมา สรฏฺฐกา;
‘อชฺเชว ปุตฺต ปฏิปชฺช, อิทฺธํ ผีตํ มหามหึ’.
নগরিক ও রাজ্যবাসী সকলে করজোড়ে আমার কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেন। পিতাও বললেন, 'হে পুত্র, আজই তুমি এই সমৃদ্ধ ও বিশাল পৃথিবীর রাজত্ব গ্রহণ করো।'
๔.
৪.
‘‘สราชเก สโหโรเธ, สเนคเม สรฏฺฐเก;
กรุณํ ปริเทวนฺเต, อนเปกฺโขว ปริจฺจชึ.
রাজা, অন্তঃপুরিকা, নগরিক ও রাজ্যবাসী সকলে যখন করুণভাবে ক্রন্দন করছিলেন, তখন আমি কোনো আসক্তি ছাড়াই সবকিছু পরিত্যাগ করলাম।
๕.
৫.
‘‘เกวลํ ปถวึ รชฺชํ, ญาติปริชนํ ยสํ;
จชมาโน น จินฺเตสึ, โพธิยาเยว การณา.
সমগ্র পৃথিবী, রাজত্ব, জ্ঞাতি, পরিজন ও যশ পরিত্যাগ করার সময় আমি কেবল বোধিজ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যেই তা করেছিলাম, অন্য কোনো চিন্তা করিনি।
๖.
৬.
‘‘มาตาปิตา น เม เทสฺสา, นปิ เม เทสฺสํ มหายสํ;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา รชฺชํ ปริจฺจชิ’’นฺติ.
পিতা-মাতা আমার অপ্রিয় ছিলেন না, এই মহান যশও আমার অপ্রিয় ছিল না। কিন্তু সর্বজ্ঞতা আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল, তাই আমি রাজ্য পরিত্যাগ করেছিলাম।
ยุธญฺชยจริยํ ปฐมํ.
প্রথম যুধঞ্জয়-চর্য্যা সমাপ্ত।
๒. โสมนสฺสจริยา
২. সোমনস-চর্য্যা
๗.
৭.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, อินฺทปตฺเถ ปุรุตฺตเม;
กามิโต ทยิโต ปุตฺโต, โสมนสฺโสติ วิสฺสุโต.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি শ্রেষ্ঠ নগর ইন্দ্রপত্তে (ইন্দ্রপ্রস্থে) পিতা-মাতার আকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত প্রিয় 'সোমনস' নামে খ্যাত রাজপুত্র ছিলাম।
๘.
৮.
‘‘สีลวา คุณสมฺปนฺโน, กลฺยาณปฏิภานวา;
วุฑฺฒาปจายี หิรีมา, สงฺคเหสุ จ โกวิโท.
আমি ছিলাম শীলবান, গুণসম্পন্ন, কল্যাণকর প্রতিভার অধিকারী, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, হিরী (পাপভীরুতা) যুক্ত এবং সংগহ-বস্তুসমূহে (দান, প্রিয়বচন ইত্যাদিতে) দক্ষ।
๙.
৯.
‘‘ตสฺส รญฺโญ ปติกโร, อโหสิ กุหกตาปโส;
อารามํ มาลาวจฺฉญฺจ, โรปยิตฺวาน ชีวติ.
সেই রাজার এক বিশ্বস্ত ভণ্ড তপস্বী ছিল; সে বাগান ও ফুলের চারা রোপণ করে (তা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে) জীবিকা নির্বাহ করত।
๑๐.
১০.
‘‘ตมหํ ทิสฺวาน กุหกํ, ถุสราสึว อตณฺฑุลํ;
ทุมํว อนฺโต สุสิรํ, กทลึว อสารกํ.
তণ্ডুলহীন (চালহীন) তুষের স্তূপের মতো, অভ্যন্তরে কোটরযুক্ত বৃক্ষের মতো এবং অসার কদলী বৃক্ষের (কলাগাছের) মতো সেই ভণ্ডকে দেখে—
๑๑.
১১.
‘‘นตฺถิมสฺส [Pg.409] สตํ ธมฺโม, สามญฺญาปคโต อยํ;
หิรีสุกฺกธมฺมชหิโต, ชีวิตวุตฺติการณา.
আমি চিন্তা করলাম: 'এর মধ্যে সৎপুরুষদের ধর্ম নেই, এ শ্রমণত্ব থেকে বিচ্যুত; কেবল জীবিকা নির্বাহের জন্য হিরী ও শুভ্রধর্ম বর্জন করে সে তপস্বীর বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।'
๑๒.
১২.
‘‘กุปิโต อหุ ปจฺจนฺโต, อฏวีหิ ปรนฺติหิ;
ตํ นิเสเธตุํ คจฺฉนฺโต, อนุสาสิ ปิตา มมํ.
তখন বন্য দস্যু ও সীমান্তবাসীদের দ্বারা সীমান্ত অঞ্চল উপদ্রুত হয়েছিল। পিতা সেই উপদ্রব দমন করতে যাওয়ার সময় আমাকে এই উপদেশ দিয়ে গেলেন:
๑๓.
১৩.
‘‘‘มา ปมชฺชิ ตุวํ ตาต, ชฏิลํ อุคฺคตาปนํ;
ยทิจฺฉกํ ปวตฺเตหิ, สพฺพกามทโท หิ โส’.
‘হে বৎস, তুমি উগ্র তপস্বী জটাধারীর পরিচর্যায় প্রমাদ করো না; তিনি যা চান তা-ই প্রদান করো, কারণ তিনি সমস্ত কামনা পূরণকারী।’
๑๔.
১৪.
‘‘ตมหํ คนฺตฺวานุปฏฺฐานํ, อิทํ วจนมพฺรวึ;
‘กจฺจิ เต คหปติ กุสลํ, กึ วา เต อาหรียตุ’.
আমি তাঁর পরিচর্যার জন্য গিয়ে এই কথা বললাম: ‘হে গৃহপতি, আপনার কুশল তো? আপনার জন্য কী নিয়ে আসা হবে?’
๑๕.
১৫.
‘‘เตน โส กุปิโต อาสิ, กุหโก มานนิสฺสิโต;
‘ฆาตาเปมิ ตุวํ อชฺช, รฏฺฐา ปพฺพาชยามิ วา’.
তাতে সেই অহংকারী ভণ্ড তপস্বী অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলো এবং বলল: ‘আজই আমি তোমাকে হত্যা করাব অথবা রাজ্য থেকে নির্বাসিত করব।’
๑๖.
১৬.
‘‘นิเสธยิตฺวา ปจฺจนฺตํ, ราชา กุหกมพฺรวิ;
‘กจฺจิ เต ภนฺเต ขมนียํ, สมฺมาโน เต ปวตฺติโต’.
সীমান্তের উপদ্রব দমন করে ফিরে এসে রাজা সেই ভণ্ড তপস্বীকে বললেন: ‘ভন্তে, আপনার সব সহনীয় তো? (রাজপুত্র দ্বারা) আপনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে তো?’
๑๗.
১৭.
‘‘ตสฺส อาจิกฺขตี ปาโป, กุมาโร ยถา นาสิโย;
ตสฺส ตํ วจนํ สุตฺวา, อาณาเปสิ มหีปติ.
সেই পাপী তপস্বী রাজাকে এমনভাবে বলল যাতে রাজপুত্রকে হত্যা করা যায়। তার সেই কথা শুনে পৃথিবীপতি রাজা আদেশ দিলেন:
๑๘.
১৮.
‘‘‘สีสํ ตตฺเถว ฉินฺทิตฺวา, กตฺวาน จตุขณฺฑิกํ;
รถิยา รถิยํ ทสฺเสถ, สา คติ ชฏิลหีฬิตา’.
‘সেখানেই তার মস্তক ছিন্ন করে শরীরকে চার খণ্ড করো এবং এক পথ থেকে অন্য পথে প্রদর্শন করো; জটাধারীকে অবজ্ঞা করার এই পরিণতি!’
๑๙.
১৯.
‘‘ตตฺถ การณิกา คนฺตฺวา, จณฺฑา ลุทฺทา อการุณา;
มาตุองฺเก นิสินฺนสฺส, อากฑฺฒิตฺวา นยนฺติ มํ.
তখন নিষ্ঠুর, ক্রূর ও করুণাহীন জল্লাদেরা সেখানে গিয়ে, আমি যখন মাতার কোলে বসেছিলাম, তখন আমাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেল।
๒๐.
২০.
‘‘เตสาหํ เอวมวจํ, พนฺธตํ คาฬฺหพนฺธนํ;
‘รญฺโญ ทสฺเสถ มํ ขิปฺปํ, ราชกิริยานิ อตฺถิ เม’.
যারা আমাকে শক্ত বাঁধনে বাঁধছিল, তাদের আমি বললাম: ‘আমাকে দ্রুত রাজার কাছে নিয়ে চলো, রাজার সাথে আমার কিছু করণীয় কাজ আছে।’
๒๑.
২১.
‘‘เต มํ รญฺโญ ทสฺสยึสุ, ปาปสฺส ปาปเสวิโน;
ทิสฺวาน ตํ สญฺญาเปสึ, มมญฺจ วสมานยึ.
তারা আমাকে সেই পাপী ও পাপের সেবক রাজার সামনে হাজির করল। আমি রাজাকে দেখে সত্য বুঝিয়ে দিলাম এবং তাঁকে আমার বশীভূত করলাম।
๒๒.
২২.
‘‘โส มํ ตตฺถ ขมาเปสิ, มหารชฺชมทาสิ เม;
โสหํ ตมํ ทาลยิตฺวา, ปพฺพชึ อนคาริยํ.
সেখানে তিনি আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং আমাকে বিশাল রাজ্য প্রদান করলেন। আমি সেই মোহরূপ অন্ধকারকে ছিন্ন করে গৃহহীন প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলাম।
๒๓.
২৩.
‘‘น เม เทสฺสํ มหารชฺชํ, กามโภโค น เทสฺสิโย;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา รชฺชํ ปริจฺจชิ’’นฺติ.
আমার কাছে বিশাল রাজ্য অপ্রিয় ছিল না, কামভোগও অপ্রিয় ছিল না; কিন্তু সর্বজ্ঞতা জ্ঞানই আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল, তাই আমি রাজ্য পরিত্যাগ করেছিলাম।
โสมนสฺสจริยํ ทุติยํ.
দ্বিতীয় সোমনস-চর্য্যা সমাপ্ত।
๓. อโยฆรจริยา
৩. অয়োঘর-চর্য্যা
๒๔.
২৪.
‘‘ปุนาปรํ [Pg.410] ยทา โหมิ, กาสิราชสฺส อตฺรโช;
อโยฆรมฺหิ สํวฑฺโฒ, นาเมนาสิ อโยฆโร.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি কাশীরাজের পুত্র ছিলাম; লৌহগৃহে (লোহার ঘরে) লালিত-পালিত হওয়ার কারণে আমার নাম হয়েছিল 'অয়োঘর'।
๒๕.
২৫.
‘‘ทุกฺเขน ชีวิโต ลทฺโธ, สํปีเฬ ปติโปสิโต;
อชฺเชว ปุตฺต ปฏิปชฺช, เกวลํ วสุธํ อิมํ.
আমি অত্যন্ত কষ্টের সাথে জীবন ফিরে পেয়েছিলাম এবং সংকীর্ণ লৌহগৃহে লালিত হয়েছিলাম। (ষোলো বছর বয়সে পিতা বললেন:) ‘হে পুত্র, আজই তুমি এই সমগ্র পৃথিবী শাসন করো—
๒๖.
২৬.
‘‘สรฏฺฐกํ สนิคมํ, สชนํ วนฺทิตฺว ขตฺติยํ;
อญฺชลึ ปคฺคเหตฺวาน, อิทํ วจนมพฺรวึ.
যা রাজ্য, নিগম ও প্রজাবর্গসহ বর্তমান।’ তখন আমি সেই ক্ষত্রিয় রাজাকে বন্দনা করে এবং হাত জোড় করে এই কথা বললাম:
๒๗.
২৭.
‘‘‘เย เกจิ มหิยา สตฺตา, หีนมุกฺกฏฺฐมชฺฌิมา;
นิรารกฺขา สเก เคเห, วฑฺฒนฺติ สกญาติภิ.
‘হে পিতা, এই পৃথিবীতে হীন, মধ্যম বা উৎকৃষ্ট যে কোনো প্রাণীই হোক না কেন, তারা কোনো বিশেষ পাহারা ছাড়াই নিজেদের ঘরে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে বড় হয়ে ওঠে।
๒๘.
২৮.
‘‘‘อิทํ โลเก อุตฺตริยํ, สํปีเฬ มม โปสนํ;
อโยฆรมฺหิ สํวฑฺโฒ, อปฺปเภ จนฺทสูริเย.
‘কিন্তু এই জগতে আমার লালন-পালন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কষ্টদায়ক; আমি চন্দ্র ও সূর্যের আলোহীন এক লৌহগৃহে বড় হয়েছি।
๒๙.
২৯.
‘‘‘ปูติกุณปสมฺปุณฺณา, มุจฺจิตฺวา มาตุ กุจฺฉิโต;
ตโต โฆรตเร ทุกฺเข, ปุน ปกฺขิตฺตโยฆเร.
‘দুর্গন্ধযুক্ত অপবিত্র জিনিসে পূর্ণ মাতৃগর্ভ থেকে মুক্ত হয়ে, আমি তার চেয়েও ঘোরতর কষ্টের লৌহগৃহে পুনরায় নিক্ষিপ্ত হয়েছিলাম।
๓๐.
৩০.
‘‘‘ยทิหํ ตาทิสํ ปตฺวา, ทุกฺขํ ปรมทารุณํ;
รชฺเชสุ ยทิ รชฺชามิ, ปาปานํ อุตฺตโม สิยํ.
‘আমি যদি এইরকম পরম দারুণ কষ্ট ভোগ করার পরও রাজ্যে আসক্ত হই, তবে আমি পাপীদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ পাপী হব।
๓๑.
৩১.
‘‘‘อุกฺกณฺฐิโตมฺหิ กาเยน, รชฺเชนมฺหิ อนตฺถิโก;
นิพฺพุตึ ปริเยสิสฺสํ, ยตฺถ มํ มจฺจุ น มทฺทิเย’.
‘আমি এই শরীর নিয়ে অত্যন্ত উদাসীন এবং রাজ্যে আমার কোনো প্রয়োজন নেই; আমি সেই নির্বাণ অন্বেষণ করব, যেখানে মৃত্যু আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।’
๓๒.
৩২.
‘‘เอวาหํ จินฺตยิตฺวาน, วิรวนฺเต มหาชเน;
นาโคว พนฺธนํ เฉตฺวา, ปาวิสึ กานนํ วนํ.
আমি এইরকম চিন্তা করে, সমস্ত প্রজাবর্গের ক্রন্দন ও বিলাপের মাঝেই, বন্ধন ছিন্নকারী হস্তীর মতো সমস্ত বন্ধন কেটে অরণ্যে প্রবেশ করলাম।
๓๓.
৩৩.
‘‘มาตาปิตา น เม เทสฺสา, นปิ เม เทสฺสํ มหายสํ;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา รชฺชํ ปริจฺจชิ’’นฺติ.
মাতা-পিতা আমার অপ্রিয় ছিলেন না, বিশাল যশ ও কীর্তিও অপ্রিয় ছিল না; কিন্তু সর্বজ্ঞতা জ্ঞানই আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল, তাই আমি রাজ্য পরিত্যাগ করেছিলাম।
อโยฆรจริยํ ตติยํ.
তৃতীয় অয়োঘর-চর্য্যা সমাপ্ত।
๔. ภิสจริยา
৪. ভিস-চর্য্যা
๓๔.
৩৪.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, กาสีนํ ปุรวรุตฺตเม;
ภคินี จ ภาตโร สตฺต, นิพฺพตฺตา โสตฺถิเย กุเล.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি কাশীর শ্রেষ্ঠ নগরীতে (বারাণসীতে) ছিলাম; তখন এক ভগিনী এবং সাত ভাইসহ আমরা এক শ্রোত্রিয় (বেদজ্ঞ) ব্রাহ্মণ কুলে জন্মগ্রহণ করেছিলাম।
๓๕.
৩৫.
‘‘เอเตสํ [Pg.411] ปุพฺพโช อาสึ, หิรีสุกฺกมุปาคโต;
ภวํ ทิสฺวาน ภยโต, เนกฺขมฺมาภิรโต อหํ.
তাদের মধ্যে আমি ছিলাম জ্যেষ্ঠ এবং হিরী ও শুভ্রধর্মে (পাপভীরুতায়) প্রতিষ্ঠিত। সংসারকে ভয়ের কারণ হিসেবে দেখে আমি প্রব্রজ্যায় অত্যন্ত অনুরক্ত ছিলাম।
๓๖.
৩৬.
‘‘มาตาปิตูหิ ปหิตา, สหายา เอกมานสา;
กาเมหิ มํ นิมนฺเตนฺติ, ‘กุลวํสํ ธเรหิ’ติ.
মাতা-পিতা কর্তৃক প্রেরিত হয়ে একমনোভাবাপন্ন বন্ধুরা আমাকে কামভোগের জন্য আমন্ত্রণ জানাল এবং বলল: ‘বংশধারা রক্ষা করো।’
๓๗.
৩৭.
‘‘ยํ เตสํ วจนํ วุตฺตํ, คิหีธมฺเม สุขาวหํ;
ตํ เม อโหสิ กฐินํ, ตตฺต ผาลสมํ วิย.
গৃহীধর্মের সুখের বিষয়ে তাদের বলা সেই কথাগুলো আমার কাছে অত্যন্ত কঠোর মনে হয়েছিল, যেন উত্তপ্ত লোহার ফাল (লাঙলের ফলা) আমার দুই কান পুড়িয়ে দিচ্ছে।
๓๘.
৩৮.
‘‘เต มํ ตทา อุกฺขิปนฺตํ, ปุจฺฉึสุ ปตฺถิตํ มม;
‘กึ ตฺวํ ปตฺถยเส สมฺม, ยทิ กาเม น ภุญฺชสิ’.
তখন আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তারা আমার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল: ‘হে বন্ধু, তুমি যদি কামভোগ না করো, তবে তুমি কী প্রার্থনা করো?’
๓๙.
৩৯.
‘‘เตสาหํ เอวมวจํ, อตฺถกาโม หิเตสินํ;
‘นาหํ ปตฺเถมิ คิหีภาวํ, เนกฺขมฺมาภิรโต อหํ’.
নিজের হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধুদের আমি বললাম: ‘আমি গৃহী জীবন প্রার্থনা করি না, আমি প্রব্রজ্যাতেই অত্যন্ত অনুরক্ত।’
๔๐.
৪০.
‘‘เต มยฺหํ วจนํ สุตฺวา, ปิตุมาตุ จ สาวยุํ;
มาตาปิตา เอวมาหุ, ‘สพฺเพว ปพฺพชาม โภ’.
তারা আমার কথা শুনে আমার পিতা-মাতাকে তা জানাল। তখন পিতা-মাতা বললেন: ‘হে প্রিয়গণ, তাহলে আমরা সকলেই প্রব্রজ্যা গ্রহণ করব।’
๔๑.
৪১.
‘‘อุโภ มาตาปิตา มยฺหํ, ภคินี จ สตฺต ภาตโร;
อมิตธนํ ฉฑฺฑยิตฺวา, ปาวิสิมฺหา มหาวน’’นฺติ.
আমার পিতা-মাতা উভয়েই, ভগিনী এবং সাত ভাই—আমরা সকলে অসীম ধনসম্পদ পরিত্যাগ করে মহাবনে প্রবেশ করলাম।
ภิสจริยํ จตุตฺถํ.
চতুর্থ ভিস-চর্য্যা সমাপ্ত।
๕. โสณปณฺฑิตจริยา
৫. সোণপণ্ডিত-চর্য্যা
๔๒.
৪২.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, นคเร พฺรหฺมวฑฺฒเน;
ตตฺถ กุลวเร เสฏฺเฐ, มหาสาเล อชายหํ.
আবার অন্য এক সময়ে, when আমি ব্রহ্মবর্ধন নগরে ছিলাম; সেখানে আমি এক মহাসাল (অত্যন্ত ধনী) শ্রেষ্ঠ কুলীন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলাম।
๔๓.
৪৩.
‘‘ตทาปิ โลกํ ทิสฺวาน, อนฺธีภูตํ ตโมตฺถฏํ;
จิตฺตํ ภวโต ปติกุฏติ, ตุตฺตเวคหตํ วิย.
তখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন ও মোহাচ্ছন্ন জগতকে দেখে, অঙ্কুশের আঘাতে তাড়িত হস্তীর মতো আমার মন সংসার থেকে সংকুচিত হয়েছিল।
๔๔.
৪৪.
‘‘ทิสฺวาน วิวิธํ ปาปํ, เอวํ จินฺเตสหํ ตทา;
‘กทาหํ เคหา นิกฺขมฺม, ปวิสิสฺสามิ กานนํ’.
নানা প্রকার পাপ দেখে আমি তখন চিন্তা করেছিলাম: ‘কবে আমি গৃহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে অরণ্যে প্রবেশ করব?’
๔๕.
৪৫.
‘‘ตทาปิ มํ นิมนฺเตสุํ, กามโภเคหิ ญาตโย;
เตสมฺปิ ฉนฺทมาจิกฺขึ, ‘มา นิมนฺเตถ เตหิ มํ’.
তখনও আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে কামভোগের জন্য প্রলুব্ধ করেছিল; কিন্তু আমি তাদের কাছে আমার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেছিলাম: ‘আমাকে কামভোগের জন্য প্রলুব্ধ করবেন না।’
๔๖.
৪৬.
‘‘โย [Pg.412] เม กนิฏฺฐโก ภาตา, นนฺโท นามาสิ ปณฺฑิโต;
โสปิ มํ อนุสิกฺขนฺโต, ปพฺพชฺชํ สมโรจยิ.
আমার যে কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিল, তার নাম ছিল নন্দ এবং সে ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমান; সেও আমার অনুকরণ করে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছিল।
๔๗.
৪৭.
‘‘อหํ โสโณ จ นนฺโท จ, อุโภ มาตาปิตา มม;
ตทาปิ โภเค ฉฑฺเฑตฺวา, ปาวิสิมฺหา มหาวน’’นฺติ.
আমি সোণ, আমার ভাই নন্দ এবং আমাদের পিতা-মাতা উভয়েই—আমরা সকলে সমস্ত ভোগ-সম্পদ পরিত্যাগ করে মহাবনে প্রবেশ করেছিলাম।
โสณปณฺฑิตจริยํ ปญฺจมํ.
পঞ্চম সোণপণ্ডিত-চর্য্যা সমাপ্ত।
๖. เตมิยจริยา
৬. তেমিয়-চর্য্যা
๔๘.
৪৮.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, กาสิราชสฺส อตฺรโช;
มูคปกฺโขติ นาเมน, เตมิโยติ วทนฺติ มํ.
আবার অন্য এক সময়ে, যখন আমি কাশীরাজের পুত্র ছিলাম; তখন আমাকে নামে 'মূগপক্খ' (বোবা ও পঙ্গু) এবং 'তেমিয়' নামে ডাকা হতো।
๔๙.
৪৯.
‘‘โสฬสิตฺถิสหสฺสานํ, น วิชฺชติ ปุโม ตทา ;
อโหรตฺตานํ อจฺจเยน, นิพฺพตฺโต อหเมกโก.
তখনও কাশীরাজের ষোলো হাজার রানীর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না; বহু দিন ও রাত অতিবাহিত হওয়ার পর আমি একাই জন্মগ্রহণ করেছিলাম।
๕๐.
৫০.
‘‘กิจฺฉา ลทฺธํ ปิยํ ปุตฺตํ, อภิชาตํ ชุตินฺธรํ;
เสตจฺฉตฺตํ ธารยิตฺวาน, สยเน โปเสติ มํ ปิตา.
অনেক কষ্টের পর লাভ করা, উচ্চ বংশজাত ও দীপ্তিময় প্রিয় পুত্র আমাকে পিতা শ্বেতছত্র ধারণ করে শয্যায় লালন-পালন করতে লাগলেন।
๕๑.
৫১.
‘‘นิทฺทายมาโน สยนวเร, ปพุชฺฌิตฺวานหํ ตทา;
อทฺทสํ ปณฺฑรํ ฉตฺตํ, เยนาหํ นิรยํ คโต.
সেই শ্রেষ্ঠ শয্যায় ঘুমন্ত অবস্থায় যখন আমি জেগে উঠলাম, তখন আমি শ্বেতছত্রটি দেখতে পেলাম; যে ছত্রের কারণে (পূর্বজন্মে রাজা থাকার কারণে) আমি নরকে গিয়েছিলাম।
๕๒.
৫২.
‘‘สห ทิฏฺฐสฺส เม ฉตฺตํ, ตาโส อุปฺปชฺชิ เภรโว;
วินิจฺฉยํ สมาปนฺโน, ‘กถาหํ อิมํ มุญฺจิสฺสํ’.
ছত্রটি দেখার সাথে সাথেই আমার মনে এক ভয়ানক ভীতি ও ত্রাসের সঞ্চার হলো; আমি গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলাম: ‘কীভাবে আমি এই রাজপ্রাসাদ থেকে মুক্তি পাব?’
๕๓.
৫৩.
‘‘ปุพฺพสาโลหิตา มยฺหํ, เทวตา อตฺถกามินี;
สา มํ ทิสฺวาน ทุกฺขิตํ, ตีสุ ฐาเนสุ โยชยิ.
আমার পূর্বজন্মের এক আত্মীয় (মাতা) এবং হিতাকাঙ্ক্ষী দেবী আমাকে দুঃখিত দেখে তিনটি বিষয়ে (বোবা, বধির ও পঙ্গু সাজার জন্য) উৎসাহিত করলেন:
๕๔.
৫৪.
‘‘‘มา ปณฺฑิจฺจยํ วิภาวย, พาลมโต ภว สพฺพปาณินํ;
สพฺโพ ตํ ชโน โอจินายตุ, เอวํ ตว อตฺโถ ภวิสฺสติ’.
‘তুমি তোমার বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ কোরো না; সমস্ত প্রাণীর কাছে নিজেকে মূর্খ হিসেবে জাহির করো। সবাই যেন তোমাকে অবজ্ঞা করে; এভাবেই তোমার উদ্দেশ্য সফল হবে।’
๕๕.
৫৫.
‘‘เอวํ วุตฺตายหํ ตสฺสา, อิทํ วจนมพฺรวึ;
‘กโรมิ เต ตํ วจนํ, ยํ ตฺวํ ภณสิ เทวเต;
তিনি এই কথা বললে আমি তাঁকে এই উত্তর দিলাম: ‘হে দেবী, আপনি যা বলছেন, আমি আপনার সেই কথা মতোই কাজ করব;
อตฺถกามาสิ เม อมฺม, หิตกามาสิ เทวเต’.
হে মা, আপনি আমার হিতাকাঙ্ক্ষী; হে দেবী, আপনি আমার মঙ্গল চান।’
๕๖.
৫৬.
‘‘ตสฺสาหํ วจนํ สุตฺวา, สาคเรว ถลํ ลภึ;
หฏฺโฐ สํวิคฺคมานโส, ตโย องฺเค อธิฏฺฐหึ.
আমি সেই দেবীর কথা শুনে, সমুদ্রে স্থলভাগ পাওয়ার মতো আনন্দিত ও সংবিগ্নমানস হয়ে তিনটি অঙ্গ অধিষ্ঠান করেছিলাম।
๕๗.
৫৭.
‘‘มูโค [Pg.413] อโหสึ พธิโร, ปกฺโข คติวิวชฺชิโต;
เอเต องฺเค อธิฏฺฐาย, วสฺสานิ โสฬสํ วสึ.
আমি বোবা, বধির এবং গতিহীন পঙ্গু সেজেছিলাম; এই অঙ্গগুলো অধিষ্ঠান করে আমি ষোলো বছর বাস করেছিলাম।
๕๘.
৫৮.
‘‘ตโต เม หตฺถปาเท จ, ชิวฺหํ โสตญฺจ มทฺทิย;
อนูนตํ เม ปสฺสิตฺวา, ‘กาฬกณฺณี’ติ นินฺทิสุํ.
তারপর তারা আমার হাত-পা, জিহ্বা ও কান মর্দন করে আমার অঙ্গের কোনো ত্রুটি না দেখে আমাকে 'কালকর্ণী' বলে নিন্দা করেছিল।
๕๙.
৫৯.
‘‘ตโต ชานปทา สพฺเพ, เสนาปติปุโรหิตา;
สพฺเพ เอกมนา หุตฺวา, ฉฑฺฑนํ อนุโมทิสุํ.
তারপর সমস্ত দেশবাসী, সেনাপতি ও পুরোহিতগণ—সকলে একমত হয়ে আমাকে পরিত্যাগ করার অনুমোদন দিয়েছিল।
๖๐.
৬০.
‘‘โสหํ เตสํ มตึ สุตฺวา, หฏฺโฐ สํวิคฺคมานโส;
ยสฺสตฺถาย ตโปจิณฺโณ, โส เม อตฺโถ สมิชฺฌถ.
আমি তাদের সেই অভিপ্রায় শুনে আনন্দিত ও সংবিগ্নমানস হয়েছিলাম; যে উদ্দেশ্যে আমি তপস্যা করেছিলাম, আমার সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল।
๖๑.
৬১.
‘‘นฺหาเปตฺวา อนุลิมฺปิตฺวา, เวเฐตฺวา ราชเวฐนํ;
ฉตฺเตน อภิสิญฺจิตฺวา, กาเรสุํ ปุรํ ปทกฺขิณํ.
তারা আমাকে স্নান করিয়ে, সুগন্ধি লেপন করে, রাজমুকুট পরিয়ে এবং শ্বেতছত্র দ্বারা অভিষিক্ত করে নগর প্রদক্ষিণ করিয়েছিল।
๖๒.
৬২.
‘‘สตฺตาหํ ธารยิตฺวาน, อุคฺคเต รวิมณฺฑเล;
รเถน มํ นีหริตฺวา, สารถี วนมุปาคมิ.
সাত দিন ধরে শ্বেতছত্র ধারণ করার পর, সূর্য উদিত হলে সারথি আমাকে রথে করে বের করে বনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
๖๓.
৬৩.
‘‘เอโกกาเส รถํ กตฺวา, สชฺชสฺสํ หตฺถมุจฺจิโต ;
สารถี ขณตี กาสุํ, นิขาตุํ ปถวิยา มมํ.
সারথি রথটিকে এক নির্জন স্থানে রেখে, ঘোড়াগুলোকে মুক্ত করে, আমাকে মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য গর্ত খুঁড়তে লাগল।
๖๔.
৬৪.
‘‘อธิฏฺฐิตมธิฏฺฐานํ, ตชฺเชนฺโต วิวิธการณา;
น ภินฺทึ ตมธิฏฺฐานํ, โพธิยาเยว การณา.
নানাভাবে আমাকে ভয় দেখানো সত্ত্বেও, আমি কেবল বোধিজ্ঞানের উদ্দেশ্যেই আমার সেই দৃঢ় অধিষ্ঠান ভঙ্গ করিনি।
๖๕.
৬৫.
‘‘มาตาปิตา น เม เทสฺสา, อตฺตา เม น จ เทสฺสิโย;
สพฺพญฺญุตํ ปิยํ มยฺหํ, ตสฺมา วตมธิฏฺฐหึ.
মাতা-পিতা আমার অপ্রিয় ছিলেন না, নিজের শরীরও আমার অপ্রিয় ছিল না; কিন্তু সর্বজ্ঞতা আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল, তাই আমি এই ব্রত অধিষ্ঠান করেছিলাম।
๖๖.
৬৬.
‘‘เอเต องฺเค อธิฏฺฐาย, วสฺสานิ โสฬสํ วสึ;
อธิฏฺฐาเนน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม อธิฏฺฐานปารมี’’ติ.
এই অঙ্গগুলো অধিষ্ঠান করে আমি ষোলো বছর বাস করেছিলাম; অধিষ্ঠানে আমার সমান কেউ নেই, এটিই আমার অধিষ্ঠান পারমী।
เตมิยจริยํ ฉฏฺฐํ.
ষষ্ঠ তেমিয়-চরিয়া সমাপ্ত।
๗. กปิราชจริยา
৭. কপিরাজ-চরিয়া (বানররাজ চরিত্র)
๖๗.
৬৭.
‘‘ยทา อหํ กปิ อาสึ, นทีกูเล ทรีสเย;
ปีฬิโต สุสุมาเรน, คมนํ น ลภามหํ.
যখন আমি নদীর তীরে এক পর্বতগুহায় বানর ছিলাম, তখন কুমির দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আমি পারাপার হতে পারছিলাম না।
๖๘.
৬৮.
‘‘ยมฺโหกาเส [Pg.414] อหํ ฐตฺวา, โอรา ปารํ ปตามหํ;
ตตฺถจฺฉิ สตฺตุ วธโก, กุมฺภีโล ลุทฺททสฺสโน.
যে স্থান থেকে আমি এপার থেকে ওপারে লাফ দিতাম, সেখানে আমার ঘাতক শত্রু, ক্রূরদর্শন কুমিরটি ওত পেতে থাকত।
๖๙.
৬৯.
‘‘โส มํ อสํสิ ‘เอหี’ติ, ‘อหํเปมี’ติ ตํ วตึ;
ตสฺส มตฺถกมกฺกมฺม, ปรกูเล ปติฏฺฐหึ.
সে আমাকে বলেছিল, 'এসো'; আমিও তাকে বলেছিলাম, 'আমি আসছি'। তারপর তার মাথায় পা দিয়ে আমি ওপারে গিয়ে পৌঁছেছিলাম।
๗๐.
৭০.
‘‘น ตสฺส อลิกํ ภณิตํ, ยถา วาจํ อกาสหํ;
สจฺเจน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม สจฺจปารมี’’ติ.
আমি তার কাছে কোনো মিথ্যা বলিনি, নিজের কথা অনুযায়ী কাজ করেছিলাম; সত্যে আমার সমান কেউ নেই, এটিই আমার সত্য পারমী।
กปิราชจริยํ สตฺตมํ.
সপ্তম কপিরাজ-চরিয়া সমাপ্ত।
๘. สจฺจตาปสจริยา
৮. সচ্চতাপস-চরিয়া (সত্য তাপস চরিত্র)
๗๑.
৭১.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, ตาปโส สจฺจสวฺหโย;
สจฺเจน โลกํ ปาเลสึ, สมคฺคํ ชนมกาสห’’นฺติ.
আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি 'সচ্চ' নামক তাপস ছিলাম, তখন সত্যের দ্বারা আমি জগৎকে রক্ষা করেছিলাম এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলাম।
สจฺจตาปสจริยํ อฏฺฐมํ.
অষ্টম সচ্চতাপস-চরিয়া সমাপ্ত।
๙. วฏฺฏโปตกจริยา
৯. বট্টপোতক-চরিয়া (কোয়েল ছানার চরিত্র)
๗๒.
৭২.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, มคเธ วฏฺฏโปตโก;
อชาตปกฺโข ตรุโณ, มํสเปสิ กุลาวเก.
আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি মগধ দেশে এক কোয়েল ছানা ছিলাম, তখন আমার ডানা গজায়নি, আমি ছিলাম অতি কচি এবং বাসার মধ্যে মাংসপিণ্ডের মতো।
๗๓.
৭৩.
‘‘มุขตุณฺฑเกนาหริตฺวา, มาตา โปสยตี มมํ;
ตสฺสา ผสฺเสน ชีวามิ, นตฺถิ เม กายิกํ พลํ.
মা তাঁর ঠোঁট দিয়ে আহার এনে আমাকে খাওয়াতেন; তাঁর স্পর্শেই আমি বেঁচে ছিলাম, আমার শরীরে কোনো শক্তি ছিল না।
๗๔.
৭৪.
‘‘สํวจฺฉเร คิมฺหสมเย, ทวฑาโห ปทิปฺปติ;
อุปคจฺฉติ อมฺหากํ, ปาวโก กณฺหวตฺตนี.
বছরের গ্রীষ্মকালে দাবানল জ্বলে উঠেছিল; কৃষ্ণবর্ণ পথ সৃষ্টিকারী সেই আগুন আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল।
๗๕.
৭৫.
‘‘ธมธมา อิติเอวํ, สทฺทายนฺโต มหาสิขี;
อนุปุพฺเพน ฌาเปนฺโต, อคฺคิ มมมุปาคมิ.
হু-হু শব্দ করে বিশাল শিখাযুক্ত সেই আগুন সবকিছু পুড়িয়ে ক্রমান্বয়ে আমার কাছে চলে এসেছিল।
๗๖.
৭৬.
‘‘อคฺคิเวคภยาตีตา, ตสิตา มาตาปิตา มม;
กุลาวเก มํ ฉฑฺเฑตฺวา, อตฺตานํ ปริโมจยุํ.
আগুনের তীব্র গতি ও ভয়ে ভীত ও ত্রস্ত হয়ে আমার পিতা-মাতা আমাকে বাসাতেই ফেলে রেখে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য উড়ে গিয়েছিলেন।
๗๗.
৭৭.
‘‘ปาเท [Pg.415] ปกฺเข ปชหามิ, นตฺถิ เม กายิกํ พลํ;
โสหํ อคติโก ตตฺถ, เอวํ จินฺเตสหํ ตทา.
আমি পা ও ডানা নাড়াতে পারছিলাম না, আমার শরীরে কোনো শক্তি ছিল না; নিরুপায় হয়ে আমি তখন সেই বাসায় বসে এভাবে চিন্তা করেছিলাম—
๗๘.
৭৮.
‘‘‘เยสาหํ อุปธาเวยฺยํ, ภีโต ตสิตเวธิโต;
เต มํ โอหาย ปกฺกนฺตา, กถํ เม อชฺช กาตเว.
ভীত ও ত্রস্ত হয়ে আমি যাদের ডানার নিচে আশ্রয় নিতে পারতাম, তাঁরা আমাকে ফেলে চলে গেছেন; আজ আমার কী করা উচিত?
๗๙.
৭৯.
‘‘‘อตฺถิ โลเก สีลคุโณ, สจฺจํ โสเจยฺยนุทฺทยา;
เตน สจฺเจน กาหามิ, สจฺจกิริยมุตฺตมํ.
জগতে শীলগুণ, সত্য, পবিত্রতা ও দয়া বিদ্যমান রয়েছে; সেই সত্যের শক্তিতে আমি এক উত্তম সত্যক্রিয়া করব।
๘๐.
৮০.
‘‘‘อาเวชฺเชตฺวา ธมฺมพลํ, สริตฺวา ปุพฺพเก ชิเน;
สจฺจพลมวสฺสาย, สจฺจกิริยมกาสหํ.
ধর্মের বল চিন্তা করে এবং অতীত জয়ী বুদ্ধগণকে স্মরণ করে, সত্যের বলের ওপর নির্ভর করে আমি সত্যক্রিয়া করেছিলাম।
๘๑.
৮১.
‘‘‘สนฺติ ปกฺขา อปตนา, สนฺติ ปาทา อวญฺจนา;
มาตาปิตา จ นิกฺขนฺตา, ชาตเวท ปฏิกฺกม’.
আমার ডানা আছে কিন্তু উড়তে পারে না, পা আছে কিন্তু চলতে পারে না; পিতা-মাতাও চলে গেছেন। হে অগ্নি, তুমি ফিরে যাও।
๘๒.
৮২.
‘‘สหสจฺเจ กเต มยฺหํ, มหาปชฺชลิโต สิขี;
วชฺเชสิ โสฬสกรีสานิ, อุทกํ ปตฺวา ยถา สิขี;
สจฺเจน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม สจฺจปารมี’’ติ.
আমার সত্যক্রিয়া করার সাথে সাথেই, প্রজ্জ্বলিত সেই দাবানল—জলে পতিত আগুনের মতো—ষোলো করীষ স্থান পরিহার করে নিভে গিয়েছিল; সত্যে আমার সমান কেউ নেই, এটিই আমার সত্য পারমী।
วฏฺฏโปตกจริยํ นวมํ.
নবম বট্টপোতক-চরিয়া সমাপ্ত।
๑๐. มจฺฉราชจริยา
১০. মচ্ছরাজ-চরিয়া (মৎস্যরাজ চরিত্র)
๘๓.
৮৩.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, มจฺฉราชา มหาสเร;
อุณฺเห สูริยสนฺตาเป, สเร อุทก ขียถ.
আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি এক বিশাল হ্রদে মৎস্যরাজ ছিলাম, তখন গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রে হ্রদের জল শুকিয়ে গিয়েছিল।
๘๔.
৮৪.
‘‘ตโต กากา จ คิชฺฌา จ, กงฺกา กุลลเสนกา;
ภกฺขยนฺติ ทิวารตฺตึ, มจฺเฉ อุปนิสีทิย.
জল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কাক, শকুন, বক, চিল ও বাজপাখিরা কাদার ওপর বসে দিন-রাত মাছগুলোকে খাচ্ছিল।
๘๕.
৮৫.
‘‘เอวํ จินฺเตสหํ ตตฺถ, สห ญาตีหิ ปีฬิโต;
‘เกน นุ โข อุปาเยน, ญาตี ทุกฺขา ปโมจเย’.
জ্ঞাতিদের সাথে পীড়িত হয়ে আমি তখন এভাবে চিন্তা করেছিলাম, 'কোন উপায়ে আমার জ্ঞাতিদের এই দুঃখ থেকে মুক্ত করব?'
๘๖.
৮৬.
‘‘วิจินฺตยิตฺวา ธมฺมตฺถํ, สจฺจํ อทฺทส ปสฺสยํ;
สจฺเจ ฐตฺวา ปโมเจสึ, ญาตีนํ ตํ อติกฺขยํ.
ধর্মের অর্থ চিন্তা করে আমি সত্যকে আমাদের আশ্রয় হিসেবে দেখেছিলাম; সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমি জ্ঞাতিদের সেই মহাবিনাশ থেকে রক্ষা করেছিলাম।
๘๗.
৮৭.
‘‘อนุสฺสริตฺวา สตํ ธมฺมํ, ปรมตฺถํ วิจินฺตยํ;
อกาสิ สจฺจกิริยํ, ยํ โลเก ธุวสสฺสตํ.
সৎপুরুষদের ধর্ম স্মরণ করে এবং পরমার্থ চিন্তা করে, আমি সেই সত্যক্রিয়া করেছিলাম যা জগতে চিরন্তন সত্য।
๘๘.
৮৮.
‘‘‘ยโต [Pg.416] สรามิ อตฺตานํ, ยโต ปตฺโตสฺมิ วิญฺญุตํ;
นาภิชานามิ สญฺจิจฺจ, เอกปาณมฺปิ หึสิตํ.
যতদিন থেকে আমার স্মৃতি রয়েছে and আমি বুদ্ধিমান হয়েছি, আমি জেনে-বুঝে একটি প্রাণীকেও হিংসা বা হত্যা করিনি।
๘๙.
৮৯.
‘‘‘เอเตน สจฺจวชฺเชน, ปชฺชุนฺโน อภิวสฺสตุ;
อภิตฺถนย ปชฺชุนฺน, นิธึ กากสฺส นาสย;
กากํ โสกาย รนฺเธหิ, มจฺเฉ โสกา ปโมจย’.
এই সত্যবাক্যের প্রভাবে মেঘ বর্ষণ করুক; হে পজ্জুন্ন, তুমি গর্জন করে বর্ষণ করো, কাকদের আহারের আধার নষ্ট করো, কাকদের শোকে নিমজ্জিত করো এবং মাছদের শোক থেকে মুক্ত করো।
๙๐.
৯০.
‘‘สหกเต สจฺจวเร, ปชฺชุนฺโน อภิคชฺชิย;
ถลํ นินฺนญฺจ ปูเรนฺโต, ขเณน อภิวสฺสถ.
উত্তম সত্যক্রিয়া করার সাথে সাথেই মেঘরাজ গর্জন করে স্থল ও নিম্নভূমি পূর্ণ করে মুহূর্তের মধ্যে বর্ষণ করেছিলেন।
๙๑.
৯১.
‘‘เอวรูปํ สจฺจวรํ, กตฺวา วีริยมุตฺตมํ;
วสฺสาเปสึ มหาเมฆํ, สจฺจเตชพลสฺสิโต;
এইরূপ উত্তম সত্যক্রিয়া ও পরম বীর্য সম্পাদন করে, সত্যের তেজ ও বলের ওপর নির্ভর করে আমি মহামেঘ বর্ষণ করিয়েছিলাম।
สจฺเจน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม สจฺจปารมี’’ติ.
সত্যে আমার সমান কেউ নেই, এটিই আমার সত্য পারমী।
มจฺฉราชจริยํ ทสมํ.
দশম মচ্ছরাজ-চরিয়া সমাপ্ত।
๑๑. กณฺหทีปายนจริยา
১১. কণহদীপায়ন-চরিয়া (কৃষ্ণদ্বৈপায়ন তাপস চরিত্র)
๙๒.
৯২.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, กณฺหทีปายโน อิสิ;
ปโรปญฺญาสวสฺสานิ, อนภิรโตจรึ อหํ.
আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি কণহদীপায়ন নামক ঋষি ছিলাম, তখন আমি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অসন্তুষ্ট চিত্তে ব্রহ্মচর্য পালন করেছিলাম।
๙๓.
৯৩.
‘‘น โกจิ เอตํ ชานาติ, อนภิรติมนํ มม;
อหญฺหิ กสฺสจิ นาจิกฺขึ, อรติ เม จรติ มานเส.
কেউ আমার এই অসন্তুষ্ট মনের কথা জানত না; আমিও কাউকে বলিনি যে আমার মনে অনভিলাষ বিরাজ করছে।
๙๔.
৯৪.
‘‘สพฺรหฺมจารี มณฺฑพฺโย, สหาโย เม มหาอิสิ;
ปุพฺพกมฺมสมายุตฺโต, สูลมาโรปนํ ลภิ.
আমার সতীর্থ ও সুহৃদ মহর্ষি মাণ্ডব্য পূর্বকর্মের ফলে শূলে চড়ার শাস্তি পেয়েছিলেন।
๙๕.
৯৫.
‘‘ตมหํ อุปฏฺฐหิตฺวาน, อาโรคฺยมนุปาปยึ;
อาปุจฺฉิตฺวาน อาคญฺฉึ, ยํ มยฺหํ สกมสฺสมํ.
আমি তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করে তাঁকে সুস্থ করে তুলেছিলাম; তারপর তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আমার নিজের আশ্রমে ফিরে এসেছিলাম।
๙๖.
৯৬.
‘‘สหาโย พฺราหฺมโณ มยฺหํ, ภริยํ อาทาย ปุตฺตกํ;
ตโย ชนา สมาคนฺตฺวา, อาคญฺฉุํ ปาหุนาคตํ.
আমার এক ব্রাহ্মণ বন্ধু তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে সাথে নিয়ে—এই তিন জন মিলে অতিথি হিসেবে আমার আশ্রমে এসেছিলেন।
๙๗.
৯৭.
‘‘สมฺโมทมาโน เตหิ สห, นิสินฺโน สกมสฺสเม;
ทารโก วฏฺฏมนุกฺขิปํ, อาสีวิสมโกปยิ.
আমি যখন তাঁদের সাথে আমার আশ্রমে সানন্দে আলাপ করছিলাম, তখন বালকটি লাটিম নিয়ে খেলার সময় এক বিষধর সাপকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল।
๙๘.
৯৮.
‘‘ตโต โส วฏฺฏคตํ มคฺคํ, อนฺเวสนฺโต กุมารโก;
อาสีวิสสฺส หตฺเถน, อุตฺตมงฺคํ ปรามสิ.
তারপর সেই আদেশানুযায়ী বালকটি তার লাটিমের পথ খুঁজতে গিয়ে হাত দিয়ে বিষধর সাপের মাথায় স্পর্শ করে ফেলেছিল।
๙๙.
৯৯.
‘‘ตสฺส [Pg.417] อามสเน กุทฺโธ, สปฺโป วิสพลสฺสิโต;
กุปิโต ปรมโกเปน, อฑํสิ ทารกํ ขเณ.
স্পর্শ করার কারণে বিষের শক্তিতে বলীয়ান সাপটি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তৎক্ষণাৎ বালকটিকে দংশন করেছিল।
๑๐๐.
১০০.
‘‘สหทฏฺโฐ อาสีวิเสน, ทารโก ปปติ ภูมิยํ;
เตนาหํ ทุกฺขิโต อาสึ, มม วาหสิ ตํ ทุกฺขํ.
বিষধর সাপের দংশনের সাথে সাথেই বালকটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল; এতে আমি অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলাম এবং তাদের সেই দুঃখ নিজের দুঃখের মতো অনুভব করেছিলাম।
๑๐๑.
১০১.
‘‘ตฺยาหํ อสฺสาสยิตฺวาน, ทุกฺขิเต โสกสลฺลิเต;
ปฐมํ อกาสึ กิริยํ, อคฺคํ สจฺจํ วรุตฺตมํ.
শোকের শল্যে বিদ্ধ ও দুঃখিত সেই পিতা-মাতাকে সান্ত্বনা দিয়ে আমি প্রথমে এক পরম ও উত্তম সত্যক্রিয়া করেছিলাম।
๑๐๒.
১০২.
‘‘‘สตฺตาหเมวาหํ ปสนฺนจิตฺโต, ปุญฺญตฺถิโก อจรึ พฺรหฺมจริยํ;
อถาปรํ ยํ จริตํ มเมทํ, วสฺสานิ ปญฺญาสสมาธิกานิ.
আমি কেবল প্রথম সাত দিনই প্রসন্নচিত্তে ও পুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় ব্রহ্মচর্য পালন করেছিলাম; কিন্তু এরপর পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি যে ব্রহ্মচর্য পালন করেছি—
๑๐๓.
১০৩.
‘‘‘อกามโก วาหิ อหํ จรามิ, เอเตน สจฺเจน สุวตฺถิ โหตุ;
หตํ วิสํ ชีวตุ ยญฺญทตฺโต’.
তা আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও পালন করেছি। এই সত্যের প্রভাবে যজ্ঞদত্তের কল্যাণ হোক, বিষ নষ্ট হোক এবং সে বেঁচে উঠুক।
๑๐๔.
১০৪.
‘‘สห สจฺเจ กเต มยฺหํ, วิสเวเคน เวธิโต;
อพุชฺฌิตฺวาน วุฏฺฐาสิ, อโรโค จาสิ มาณโว;
สจฺเจน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม สจฺจปารมี’’ติ.
আমার সত্যক্রিয়া করার সাথে সাথেই, বিষের তীব্রতায় অচেতন হয়ে পড়া বালকটি জেগে উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং রোগমুক্ত হয়েছিল; সত্যে আমার সমান কেউ নেই, এটিই আমার সত্য পারমী।
กณฺหทีปายนจริยํ เอกาทสมํ.
একাদশ অধ্যায়: কহ্নদীপায়ন-চরিয় সমাপ্ত।
๑๒. สุตโสมจริยา
১২. সুতসোম-চরিয়া
๑๐๕.
১০৫.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, สุตโสโม มหีปติ;
คหิโต โปริสาเทน, พฺราหฺมเณ สงฺครํ สรึ.
“আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি সুতসোম নামক রাজা ছিলাম, তখন পোরিসাদ কর্তৃক ধৃত হয়ে আমি ব্রাহ্মণ নন্দের কাছে করা আমার প্রতিজ্ঞা স্মরণ করেছিলাম।”
๑๐๖.
১০৬.
‘‘ขตฺติยานํ เอกสตํ, อาวุณิตฺวา กรตฺตเล;
เอเตสํ ปมิลาเปตฺวา, ยญฺญตฺเถ อุปนยี มมํ.
“একশত এক জন ক্ষত্রিয় রাজার হাতের তালু ফুটো করে দড়ি দিয়ে বেঁধে, তাদের অবসন্ন করে যজ্ঞের উদ্দেশ্যে পোরিসাদ আমাকেও সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।”
๑๐๗.
১০৭.
‘‘อปุจฺฉิ มํ โปริสาโท, ‘กึ ตฺวํ อิจฺฉสิ นิสฺสชํ;
ยถามติ เต กาหามิ, ยทิ เม ตฺวํ ปุเนหิสิ’.
“পোরিসাদ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুমি কি মুক্তি চাও? যদি তুমি আমার কাছে পুনরায় ফিরে আসো, তবে তোমার ইচ্ছানুযায়ী আমি তোমাকে ছেড়ে দেব।’”
๑๐๘.
১০৮.
‘‘ตสฺส [Pg.418] ปฏิสฺสุณิตฺวาน, ปณฺเห อาคมนํ มม;
อุปคนฺตฺวา ปุรํ รมฺมํ, รชฺชํ นิยฺยาทยึ ตทา.
“তার কাছে আমার পুনরায় ফিরে আসার কথা স্বীকার করে, আমি রমণীয় নগরে ফিরে গেলাম এবং তখন আমার রাজ্য সমর্পণ করলাম।”
๑๐๙.
১০৯.
‘‘อนุสฺสริตฺวา สตํ ธมฺมํ, ปุพฺพกํ ชินเสวิตํ;
พฺราหฺมณสฺส ธนํ ทตฺวา, โปริสาทํ อุปาคมึ.
“পূর্ববর্তী বুদ্ধগণের দ্বারা অনুসৃত সৎপুরুষদের ধর্ম স্মরণ করে এবং ব্রাহ্মণকে ধন দান করে আমি পুনরায় পোরিসাদের কাছে ফিরে গেলাম।”
๑๑๐.
১১০.
‘‘นตฺถิ เม สํสโย ตตฺถ, ฆาตยิสฺสติ วา น วา;
สจฺจวาจานุรกฺขนฺโต, ชีวิตํ จชิตุมุปาคมึ;
สจฺเจน เม สโม นตฺถิ, เอสา เม สจฺจปารมี’’ติ.
“সে আমাকে হত্যা করবে কি করবে না, এ বিষয়ে আমার কোনো সংশয় ছিল না। সত্য বাক্য রক্ষা করার জন্য আমি জীবন বিসর্জন দিতেও তার কাছে ফিরে গিয়েছিলাম। সত্যে আমার সমান কেউ নেই, এটাই আমার সত্যপারমী।”
สุตโสมจริยํ ทฺวาทสมํ.
দ্বাদশ অধ্যায়: সুতসোম-চরিয় সমাপ্ত।
๑๓. สุวณฺณสามจริยา
১৩. সুবর্ণসাম-চরিয়া
๑๑๑.
১১১.
‘‘สาโม ยทา วเน อาสึ, สกฺเกน อภินิมฺมิโต;
ปวเน สีหพฺยคฺเฆ จ, เมตฺตายมุปนามยึ.
“যখন আমি বনে শক্র কর্তৃক নির্মিত আশ্রমে ‘সাম’ নামক তাপস ছিলাম, তখন বনের সিংহ ও ব্যাঘ্রদের প্রতি আমি মৈত্রীভাবাপন্ন ছিলাম।”
๑๑๒.
১১২.
‘‘สีหพฺยคฺเฆหิ ทีปีหิ, อจฺเฉหิ มหิเสหิ จ;
ปสทมิควราเหหิ, ปริวาเรตฺวา วเน วสึ.
“সিংহ, ব্যাঘ্র, চিতাবাঘ, ভালুক, বন্য মহিষ, হরিণ ও বন্য শূকরদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আমি বনে বাস করতাম।”
๑๑๓.
১১৩.
‘‘น มํ โกจิ อุตฺตสติ, นปิ ภายามิ กสฺสจิ;
เมตฺตาพเลนุปตฺถทฺโธ, รมามิ ปวเน ตทา’’ติ.
“কোনো প্রাণী আমাকে দেখে ভীত হতো না, আমিও কোনো প্রাণীকে ভয় পেতাম না। মৈত্রী বলের আশ্রয়ে বলীয়ান হয়ে আমি তখন সেই অরণ্যে আনন্দ লাভ করতাম।”
สุวณฺณสามจริยํ เตรสมํ.
ত্রয়োদশ অধ্যায়: সুবর্ণসাম-চরিয় সমাপ্ত।
๑๔. เอกราชจริยา
১৪. একরাজ-চরিয়া
๑๑๔.
১১৪.
‘‘ปุนาปรํ ยทา โหมิ, เอกราชาติ วิสฺสุโต;
ปรมํ สีลํ อธิฏฺฐาย, ปสาสามิ มหามหึ.
“আবার অন্য এক সময়ে যখন আমি ‘একরাজ’ নামে বিখ্যাত রাজা ছিলাম, তখন পরম শীল অধিষ্ঠান করে আমি এই বিশাল পৃথিবী শাসন করতাম।”
๑๑๕.
১১৫.
‘‘ทส กุสลกมฺมปเถ, วตฺตามิ อนวเสสโต;
จตูหิ สงฺคหวตฺถูหิ, สงฺคณฺหามิ มหาชนํ.
“আমি সম্পূর্ণরূপে দশ কুশল কর্মপথ আচরণ করতাম এবং চার সংগ্রহ-বস্তু দ্বারা প্রজাসাধারণকে অনুগ্রহ করতাম।”
๑๑๖.
১১৬.
‘‘เอวํ เม อปฺปมตฺตสฺส, อิธ โลเก ปรตฺถ จ;
ทพฺพเสโน อุปคนฺตฺวา, อจฺฉินฺทนฺโต ปุรํ มม.
“এইভাবে ইহলোক ও পরলোকে অপ্রমত্ত হয়ে থাকা আমার নগরে দব্বসেন নামক রাজা আক্রমণ করে আমার নগর লুণ্ঠন করতে চাইল।”
๑๑๗.
১১৭.
‘‘ราชูปชีเว [Pg.419] นิคเม, สพลฏฺเฐ สรฏฺฐเก;
สพฺพํ หตฺถคตํ กตฺวา, กาสุยา นิขณี มมํ.
“রাজকর্মচারী, নগরবাসী, সৈন্যসামন্ত ও সমগ্র রাজ্য নিজের হস্তগত করে সে আমাকে একটি গর্তে জীবন্ত পুঁতে ফেলেছিল।”
๑๑๘.
১১৮.
‘‘อมจฺจมณฺฑลํ รชฺชํ, ผีตํ อนฺเตปุรํ มม;
อจฺฉินฺทิตฺวาน คหิตํ, ปิยํ ปุตฺตํว ปสฺสหํ;
“আমার অমাত্যবর্গ, সমৃদ্ধ রাজ্য এবং অন্তঃপুর লুণ্ঠন করে কেড়ে নেওয়া সেই রাজাকে আমি নিজের প্রিয় পুত্রের মতোই মৈত্রীপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখেছিলাম।”
เมตฺตาย เม สโม นตฺถิ, เอสา เม เมตฺตาปารมี’’ติ.
মৈত্রীতে আমার সমান কেউ নেই, এটাই আমার মৈত্রীপারমী।”
เอกราชจริยํ จุทฺทสมํ.
চতুর্দশ অধ্যায়: একরাজ-চরিয় সমাপ্ত।
๑๕. มหาโลมหํสจริยา
১৫. মহালোমহংস-চরিয়া
๑๑๙.
১১৯.
‘‘สุสาเน เสยฺยํ กปฺเปมิ, ฉวฏฺฐิกํ อุปนิธายหํ;
คามณฺฑลา อุปาคนฺตฺวา, รูปํ ทสฺเสนฺตินปฺปกํ.
“শ্মশানে মৃতদেহের হাড় মাথায় দিয়ে আমি শয়ন করতাম। তখন গ্রামের বালকেরা এসে আমার সামনে নানা প্রকার বিকৃত অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করত।”
๑๒๐.
১২০.
‘‘อปเร คนฺธมาลญฺจ, โภชนํ วิวิธํ พหุํ;
อุปายนานูปเนนฺติ, หฏฺฐา สํวิคฺคมานสา.
“অন্যান্য কিছু লোক আনন্দিত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ চিত্তে সুগন্ধি, পুষ্পমাল্য, নানা প্রকার প্রচুর ভোজ্য এবং উপহার সামগ্রী নিয়ে আসত।”
๑๒๑.
১২১.
‘‘เย เม ทุกฺขํ อุปหรนฺติ, เย จ เทนฺติ สุขํ มม;
สพฺเพสํ สมโก โหมิ, ทยา โกโป น วิชฺชติ.
“যারা আমাকে দুঃখ দিত এবং যারা আমাকে সুখ দিত, সকলের প্রতিই আমি সমভাবাপন্ন ছিলাম; আমার মনে কারও প্রতি অনুরাগ বা ক্রোধ ছিল না।”
๑๒๒.
১২২.
‘‘สุขทุกฺเข ตุลาภูโต, ยเสสุ อยเสสุ จ;
สพฺพตฺถ สมโก โหมิ, เอสา เม อุเปกฺขาปารมี’’ติ.
“সুখ-দুঃখে, যশে-অপযশে আমি নিক্তির মতো অবিচলিত ছিলাম। সর্বত্র আমি সমভাবাপন্ন ছিলাম, এটাই আমার উপেক্ষা পারমী।”
มหาโลมหํสจริยํ ปนฺนรสมํ.
পঞ্চদশ অধ্যায়: মহালোমহংস-চরিয় সমাপ্ত।
ยุธญฺชยวคฺโค ตติโย.
তৃতীয় বর্গ: যুধঞ্জয় বর্গ সমাপ্ত।
ตสฺสุทฺทานํ –
এর সারসংক্ষেপ (উদ্দান):
ยุธญฺชโย โสมนสฺโส, อโยฆรภิเสน จ;
โสณนนฺโท มูคปกฺโข, กปิราชา สจฺจสวฺหโย.
যুধঞ্জয়, সোমনস, অয়োঘর, ভিস, সোণনন্দ, মূগপក្ខ, কপিরাজ, সত্য নামক কুমার,
วฏฺฏโก มจฺฉราชา จ, กณฺหทีปายโน อิสิ;
สุตโสโม ปุน อาสึ, สาโม จ เอกราชหุ;
อุเปกฺขาปารมี อาสิ, อิติ วุตฺถํ มเหสินา.
বট্টক (কোয়েল পাখি), মৎস্যরাজ, কহ্নদীপায়ন ঋষি, পুনরায় সুতসোম, সাম এবং একরাজ ছিলেন; এবং উপেক্ষা পারমী পূরণকারী মহালোমহংস ঋষি ছিলেন—এইভাবে মহর্ষি (বুদ্ধ) কর্তৃক নিজের আচরণ বর্ণিত হয়েছে।
เอวํ [Pg.420] พหุพฺพิธํ ทุกฺขํ, สมฺปตฺตี จ พหุพฺพิธา ;
ภวาภเว อนุภวิตฺวา, ปตฺโต สมฺโพธิมุตฺตมํ.
এইভাবে বিভিন্ন জন্মে বহুবিধ দুঃখ এবং বহুবিধ সুখ-সম্পদ ভোগ করে আমি উত্তম সম্বোধি (বুদ্ধত্ব) লাভ করেছি।
ทตฺวา ทาตพฺพกํ ทานํ, สีลํ ปูเรตฺวา อเสสโต;
เนกฺขมฺเม ปารมึ คนฺตฺวา, ปตฺโต สมฺโพธิมุตฺตมํ.
দানযোগ্য বস্তু দান করে, শীল সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ করে এবং নৈষ্ক্রম্য পারমী পূরণ করে আমি উত্তম সম্বোধি লাভ করেছি।
ปณฺฑิเต ปริปุจฺฉิตฺวา, วีริยํ กตฺวาน มุตฺตมํ;
ขนฺติยา ปารมึ คนฺตฺวา, ปตฺโต สมฺโพธิมุตฺตมํ.
পণ্ডিতদের জিজ্ঞাসা করে (প্রজ্ঞা পারমী পূরণ করে), উত্তম বীর্য প্রকাশ করে এবং ক্ষান্তি পারমী পূরণ করে আমি উত্তম সম্বোধি লাভ করেছি।
กตฺวา ทฬฺหมธิฏฺฐานํ, สจฺจวาจานุรกฺขิย;
เมตฺตาย ปารมึ คนฺตฺวา, ปตฺโต สมฺโพธิมุตฺตมํ.
দৃঢ় অধিষ্ঠান করে, সত্য বাক্য রক্ষা করে এবং মৈত্রী পারমী পূরণ করে আমি উত্তম সম্বোধি লাভ করেছি।
ลาภาลาเภ ยสายเส, สมฺมานนาวมานเน;
สพฺพตฺถ สมโก หุตฺวา, ปตฺโต สมฺโพธิมุตฺตมํ.
লাভ-অলাভ, যশ-অপযশ, সম্মান-অপমানে সর্বত্র সমভাবাপন্ন হয়ে আমি উত্তম সম্বোধি লাভ করেছি।
โกสชฺชํ ภยโต ทิสฺวา, วีริยารมฺภญฺจ เขมโต;
อารทฺธวีริยา โหถ, เอสา พุทฺธานุสาสนี.
অলসতাকে ভয় হিসেবে এবং বীর্য বা উদ্যোগকে ক্ষেম (শান্তি) হিসেবে দর্শন করে তোমরা বীর্যবান হও—এটাই বুদ্ধগণের অনুশাসন।
วิวาทํ ภยโต ทิสฺวา, อวิวาทญฺจ เขมโต;
สมคฺคา สขิลา โหถ, เอสา พุทฺธานุสาสนี.
বিবাদকে ভয় হিসেবে এবং অবিবাদকে ক্ষেম হিসেবে দর্শন করে তোমরা ঐক্যবদ্ধ ও প্রিয়ভাষী হও—এটাই বুদ্ধগণের অনুশাসন।
ปมาทํ ภยโต ทิสฺวา, อปฺปมาทญฺจ เขมโต;
ภาเวถฏฺฐงฺคิกํ มคฺคํ, เอสา พุทฺธานุสาสนี.
প্রমাদকে ভয় হিসেবে এবং অপ্রমাদকে ক্ষেম হিসেবে দর্শন করে তোমরা অষ্টাঙ্গিক মার্গ ভাবনা করো—এটাই বুদ্ধগণের অনুশাসন।
อิตฺถํ สุทํ ภควา อตฺตโน ปุพฺพจริยํ สมฺภาวยมาโน พุทฺธาปทานิยํ นาม ธมฺมปริยายํ อภาสิตฺถาติ.
এইভাবে ভগবান নিজের পূর্ববর্তী আচরণসমূহ প্রকাশ করে ‘বুদ্ধাপদান’ নামক ধর্মপর্যায় দেশনা করেছিলেন।
จริยาปิฏกํ นิฏฺฐิตํ.
চরিয়াপিটক সমাপ্ত।